শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বকাপ বদলে দিয়েছে যাদের ক্যারিয়ার, ভোজিনহা সর্বশেষ সংযোজন

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ। প্রতি চার বছর পরপর এই মঞ্চে জন্ম নেয় অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত, গড়ে ওঠে নতুন নায়ক। অনেক ফুটবলারের জন্য বিশ্বকাপ শুধু দেশের হয়ে খেলার সুযোগ নয়, বরং ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ারও উপলক্ষ। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে বড় ক্লাবের নজরে পড়ে অনেকেই বদলে ফেলেছেন নিজেদের ভবিষ্যৎ। সেই তালিকায় সর্বশেষ নাম কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা।

বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের পর ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ছেড়ে যোগ দিয়েছেন চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোতে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বড় ক্লাবে পাড়ি জমানোর ঘটনা নতুন নয়। ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে।

মার্ক-ভিভিয়েন ফো (ক্যানন ইয়াউন্ডে থেকে লেন্স)
১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না ক্যামেরুনের মার্ক-ভিভিয়েন ফো। যদিও সেই বিশ্বকাপে ক্যামেরুন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, তবু ব্রাজিলের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর নজর কাড়ে। বিশ্বকাপ শেষে ফ্রি ট্রান্সফারে ক্যামেরুনের ক্যানন ইয়াউন্ডে থেকে ফরাসি ক্লাব লেন্সে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথম লিগ শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

গিলবার্তো সিলভা (অ্যাটলেটিকো মিনেইরো থেকে আর্সেনাল)
২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপাজয়ী দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন গিলবার্তো সিলভা। অধিনায়ক এমারসনের ইনজুরির সুযোগে একাদশে জায়গা পেয়ে পুরো টুর্নামেন্টে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। বিশ্বকাপের পর প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে আর্সেনালে যোগ দেন তিনি। আর্সেনালের কিংবদন্তি ‘ইনভিন্সিবলস’ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে একটি প্রিমিয়ার লিগ ও দুটি এফএ কাপ জেতেন।

হাভিয়ের মাসচেরানো (করিন্থিয়ানস থেকে ওয়েস্ট হাম)
২০০৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হাভিয়ের মাসচেরানো। এরপরই ইংলিশ ক্লাব ওয়েস্ট হামে যোগ দেন তিনি। ওয়েস্ট হামে বেশি দিন না থাকলেও ২০০৭ সালে লিভারপুলে পাড়ি জমান। পরে বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সফল মিডফিল্ডারে পরিণত হন এবং একাধিক বড় শিরোপা জেতেন।

মেসুত ওজিল (ভের্ডার ব্রেমেন থেকে রিয়াল মাদ্রিদ)
২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির হয়ে চার গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে আলোচনায় আসেন মেসুত ওজিল। টুর্নামেন্টে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরই ১৫ মিলিয়ন ইউরোতে ভের্ডার ব্রেমেন থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। স্পেনে তিন মৌসুমে লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতার পর ২০১৩ সালে রেকর্ড ফিতে আর্সেনালে পাড়ি জমান।

হামেস রদ্রিগেজ (মোনাকো থেকে রিয়াল মাদ্রিদ)
২০১৪ বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা তারকা ছিলেন কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজ। ছয় গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট। উরুগুয়ের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত ভলি গোলটি পরে পুসকাস পুরস্কারও জিতে নেয়। বিশ্বকাপ শেষ হতেই প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে তাকে দলে ভেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। সেখানে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ একাধিক শিরোপা জেতেন তিনি।

ভোজিনহা (শাভেস থেকে কোলো-কোলো)
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনায় আসেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ গোলকিপিং করে তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ান।

বিশ্বকাপের পর তার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যায়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে স্লোভাকিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস ও পর্তুগালে খেললেও এবার প্রথমবারের মতো বড় ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোতে যোগ দিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

আরও পড়ুন

ইংল্যান্ড টেস্ট দলে ফিরলেন অলি পোপ, লক্ষ্য ২০২৭ অ্যাশেজ

আরও যেসব তারকার ভাগ্য বদলেছে
জর্জ হাজি — ব্রেসিয়া থেকে বার্সেলোনা (১৯৯৪)
দেজান স্ট্যানকোভিচ — রেড স্টার বেলগ্রেড থেকে লাজিও (১৯৯৮)
কার্লোস সালসিদো — গুয়াদালাহারা থেকে পিএসভি আইন্দহোভেন (২০০৬)
নিকোলাস ওতামেন্দি — ভেলেজ সার্সফিল্ড থেকে পোর্তো (২০১০)
এডিনসন কাভানি — পালের্মো থেকে নাপোলি (২০১০)
সামি খেদিরা — স্টুটগার্ট থেকে রিয়াল মাদ্রিদ (২০১০)
কেইলর নাভাস — লেভান্তে থেকে রিয়াল মাদ্রিদ (২০১৪)
এনার ভ্যালেন্সিয়া — পাচুকা থেকে ওয়েস্ট হাম (২০১৪)
এনজো ফার্নান্দেজ — বেনফিকা থেকে চেলসি (২০২২)

বিশ্বকাপ শুধু ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, এটি অনেক ফুটবলারের জন্য নিজেদের সামর্থ্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরার সবচেয়ে বড় মঞ্চ। আর সেই মঞ্চে একবার আলো ছড়াতে পারলেই বদলে যেতে পারে পুরো ক্যারিয়ারের গল্প।

ভোরের আকাশ/সু.পা

বিশ্বকাপ, ক্যারিয়ার

শেয়ার করুন: