বয়স জালিয়াতিতে নিষিদ্ধ রোহিত যাদব : বিশ্বকাপজয়ী রবি কুমারের বয়সেও গরমিল

জুলাইয়ে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কায় সিরিজ খেলেছিলেন রোহিত যাদব। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন যুব দলের সিরিজের দলেও ছিল এই লেগস্পিনারের নাম। তবে নথিপত্র যাচাইয়ের পর জানা গেছে, রোহিতের প্রকৃত বয়স তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলছে না। বয়স জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ায় তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শুধু রোহিত নন, ভারতের যুব বিশ্বকাপজয়ী আরেক ক্রিকেটারের বয়সের তথ্যেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
বয়স জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। প্রাক-মৌসুম কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্রিকেটারদের নথিপত্র যাচাইয়ের সময় রোহিতের বয়সে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর তাকে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে চলতি মাসের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি চারদিনের ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বেঙ্গল দলের প্রতিনিধিত্ব করা রোহিতের দেওয়া বয়সের সঙ্গে মূল নথিতে ২৭ মাসের পার্থক্য পাওয়া গেছে। পরে সিএবির নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিসিসিআইয়ের আওতাধীন সব রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে জানানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
রোহিতের পাশাপাশি আরও ৬৪ জন ক্রিকেটারের বয়সসংক্রান্ত অসঙ্গতি শনাক্ত করেছে পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট সংস্থা।
ওই তালিকায় রয়েছেন ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার রবি কুমারও। ২০২২ যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ভারত শিরোপা জয়ের পথে বাঁহাতি এই পেসার ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন।
২০২৩ সালে সর্বশেষ বেঙ্গল দলের হয়ে খেলা রবি কুমারের দেওয়া বয়সের সঙ্গে মূল নথির পার্থক্য পাওয়া গেছে ৪০ মাসের। ফলে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত তাঁর দেওয়া বয়সভিত্তিক সব তথ্য এখন অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বয়সসংক্রান্ত জালিয়াতি ঠেকাতে অতীতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল বিসিসিআই। ২০২০ সালে নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের জন্য শাস্তির বিধান রেখে একটি সাধারণ ক্ষমা বা ‘অ্যামনেস্টি’ স্কিমের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর আওতায় নিবন্ধিত খেলোয়াড়রা স্বেচ্ছায় বয়সসংক্রান্ত কোনো অসঙ্গতি বা ত্রুটি স্বীকার করে প্রকৃত জন্মতারিখ জানালে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ ছিল। তবে নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধানও রাখা হয়েছিল।
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে বয়স যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় খেলোয়াড়দের জন্মসনদের পাশাপাশি স্কুল বা কলেজের শিক্ষাজীবনসংক্রান্ত যত বেশি সম্ভব নথিপত্র জমা দিতে হয়। এত কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার পরও বেঙ্গল ক্রিকেট সংস্থার ৬৪ জন ক্রিকেটারের বয়সে গরমিল পাওয়ার ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বয়স জালিয়াতি প্রতিরোধের কার্যকারিতা নিয়ে।
ভোরের আকাশ/সু.পা