৩-০ ব্যবধানে সান্তোসের বিদায়, চোটে পড়ে ক্ষুব্ধ নেইমার

পালমেইরাসের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়োজন ছিল সান্তোসের। কাজটি অবশ্য বেশ কঠিনই ছিল। কোপা দো ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় লেগে গোলশূন্য ড্র করেছে নেইমার জুনিয়রের দল। ফলে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে সান্তোসের।
এর মধ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছে দলটি। চোটের কারণে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে ফিরতে পারেননি নেইমার। এই চোটের জন্য সান্তোসের নিজস্ব ভেন্যু ভিলা বেলমিরোর অসমান মাঠকে দায়ী করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
ঘরের মাঠের এমন অব্যবস্থাপনার জন্য মাঠকর্মীদের ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘অভিনন্দন’ জানিয়েছেন নেইমার। পালমেইরাসের বিপক্ষে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। বিরতি পর্যন্ত কোনোভাবে মাঠে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর খেলায় ফিরতে পারেননি। ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে তাঁকে চোখের পানি মুছতেও দেখা যায়।
নেইমারের চোটের মাত্রা নিশ্চিত করতে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এর আগে সান্তোসের হয়ে লিগের সর্বশেষ তিন ম্যাচেই শুরু থেকে খেলেছিলেন তিনি।
ব্রাজিলিয়ান কাপের সেমিফাইনালে উঠতে বুধবারের ম্যাচে সান্তোসের সামনে ছিল কঠিন সমীকরণ। কারণ প্রথম লেগেই তারা ৩-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। দ্বিতীয় লেগে গোলের দেখা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
ম্যাচ শেষে নেইমারের চোট নিয়ে সান্তোসের কোচ কুকা বলেন, ‘আমাদের তাকে ছাড়াই সামলাতে হবে।’ তবে শুধু নেইমার নন, পালমেইরাসের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়েছেন সান্তোসের উইঙ্গার আলভারো বারেয়াল ও ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমোও।
তিন খেলোয়াড়ের চোট নিয়ে কুকা বলেন, ‘আমরা নেইমারকে হারিয়েছি, বারেয়ালকে হারিয়েছি, লুকাসকেও হারিয়েছি। এখন দল হিসেবে আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। আশা করি চোটগুলো গুরুতর নয় এবং তারা যত দ্রুত সম্ভব ফিরতে পারবে।’
চলতি মৌসুমে সান্তোসের হয়ে ২৪ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন নেইমার। অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা দলটি বর্তমানে লিগ টেবিলের ১৪তম স্থানে রয়েছে। অবনমন অঞ্চলের চেয়ে চার পয়েন্ট এগিয়ে আছে তারা। এর আগের মৌসুমেও জানপ্রাণ দিয়ে লড়ে সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচিয়েছিলেন নেইমার। তখনও পুরোপুরি ফিট ছিলেন না এই তারকা।
চোট পাওয়ার পর মাঠের অবস্থা নিয়ে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেইমার। ভিলা বেলমিরোর মাঠকর্মীদের সমালোচনা করে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা দাবি করেন, ম্যাচের আগের দিন মাঠের মাটি আলগা করা হয়েছিল। ফলে ম্যাচের দিন মাঠটি ‘গর্তে ভরা’ ছিল ও তাঁর দেখা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিল।
নেইমারের অভিযোগ, পালমেইরাসের বিপক্ষে শুধু প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই নয়, তাদের ‘মাঠের বিরুদ্ধেও’ খেলতে হয়েছে। অসমান মাঠের কারণে দৌড়ানোর সময় গতি বাড়ানো ও থামতে খেলোয়াড়দের বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। প্রথমার্ধেই সান্তোসের তিন খেলোয়াড় চোট পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মাঠকর্মীদের ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘অভিনন্দন’ জানান নেইমার।
ভোরের আকাশ/সু.পা