শেষ চারে কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা, এবার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল আর্জেন্টিনার জন্য যেন সৌভাগ্যের আরেক নাম। লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি দেশটি চলমান আসরসহ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ২০ বার। এর মধ্যে ছয়বার জায়গা করে নিয়েছে শেষ চারে, আর প্রতিবারই সেমিফাইনালের বাধা পেরিয়ে উঠেছে ফাইনালে। ইতিহাস তাই বলছে, শেষ চারে উঠতে পারলেই আর্জেন্টিনার ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি।
রোববার কানসাসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। আগামী বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
এবারও আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ। একই সঙ্গে অক্ষুণ্ন রাখার চ্যালেঞ্জ তাদের সেমিফাইনালে শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড।
১৯৩০ বিশ্বকাপ: আর্জেন্টিনা ৬-১ যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ের সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ফাইনালিস্ট হয় আলবিসেলেস্তেরা।
১৯৮৬ বিশ্বকাপ: আর্জেন্টিনা ২-০ বেলজিয়াম
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের পর সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ম্যারাডোনার জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে ওঠে দলটি। পরে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা।
১৯৯০ বিশ্বকাপ: ইতালি ১-১ আর্জেন্টিনা (টাইব্রেকারে ৩-৪)
নেপলসের সান পাওলো স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ইতালির বিপক্ষে স্নায়ুচাপের ম্যাচটি নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতায় শেষ হয়। টাইব্রেকারে গোলরক্ষক সার্জিও গয়কোচিয়ার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
২০১৪ বিশ্বকাপ: নেদারল্যান্ডস ০-০ আর্জেন্টিনা (টাইব্রেকারে ২-৪)
২৪ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। করিন্থিয়ান্স অ্যারেনায় গোলশূন্য ১২০ মিনিটের পর টাইব্রেকারে নায়ক হন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। দুটি শট ঠেকিয়ে তিনি দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন।
২০২২ বিশ্বকাপ: আর্জেন্টিনা ৩-০ ক্রোয়েশিয়া
কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়াকে কোনো সুযোগই দেয়নি আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট এবং হুলিয়ান আলভারেজের জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে ওঠে দলটি। পরে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।
এবার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড
এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া এই লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। ইতিহাস বলছে, এর আগে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা পাঁচবারই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এবার সেই রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে কি না, তার উত্তর মিলবে বুধবারের মহারণে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে ভিন্ন প্রতিযোগিতা কাঠামোর কারণে আলাদা কোনো সেমিফাইনাল ছিল না। দ্বিতীয় রাউন্ডে গ্রুপসেরা হয়ে সরাসরি ফাইনালে উঠে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
ভোরের আকাশ/সু.পা