শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সির অজানা গল্প

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের পরিচয় মানেই উজ্জ্বল হলুদ জার্সি, সবুজের ছোঁয়া আর দৃষ্টিনন্দন ফুটবলের এক অনন্য ঐতিহ্য। কিন্তু এই বিখ্যাত জার্সির পেছনে রয়েছে এক বেদনাময় ইতিহাস, যার শুরু ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপের সেই হৃদয়ভাঙা পরাজয় থেকে।

১৯৫০ সালের আগে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল সাদা জার্সি পরে মাঠে নামত। কিন্তু নিজ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের নির্ধারণী ম্যাচে উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হারের পর পুরো দেশ শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে প্রায় দুই লাখ দর্শকের সামনে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা ইতিহাসে ‘মারাকানা ট্র্যাজেডি’ নামে পরিচিত।

সেই পরাজয়ের পর ব্রাজিলজুড়ে সাদা জার্সিকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা শুরু হয়। ফুটবল কর্তৃপক্ষও মনে করে, জাতীয় দলের জন্য এমন একটি নতুন পরিচয় প্রয়োজন, যা দেশের সংস্কৃতি, আত্মবিশ্বাস এবং জাতীয় চেতনাকে আরও ভালোভাবে তুলে ধরবে।

এরপর ১৯৫৩ সালে নতুন জার্সির নকশা নির্বাচনের জন্য আয়োজন করা হয় একটি প্রতিযোগিতা। সেখানে জয়ী হন মাত্র ১৯ বছর বয়সী ডিজাইনার আলদির গার্সিয়া শ্লি। তার নকশায় স্থান পায় ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার রঙ— হলুদ, সবুজ, নীল ও সাদা।

সেই নকশা অনুযায়ী তৈরি হয় হলুদ জার্সি, সবুজ কলার ও ট্রিম, নীল শর্টস এবং সাদা মোজার সমন্বয়ে গড়া নতুন কিট। জন্ম নেয় আজকের বিশ্বখ্যাত ‘ক্যানারিনহো’ জার্সি।

১৯৫৪ সালে প্রথমবারের মতো এই নতুন জার্সি পরে মাঠে নামে ব্রাজিল। এরপর ধীরে ধীরে এটি কেবল একটি ফুটবল জার্সি নয়, বরং ব্রাজিলের জাতীয় পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। এই জার্সি গায়ে জড়িয়ে ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন পেলে, জাইরজিনহো, জিকো, সক্রেটিস, রোমারিও, রোনালদো, রোনালদিনহো এবং নেইমারের মতো কিংবদন্তিরা।

হলুদ জার্সি পরেই ১৯৫৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল। এরপর ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে আরও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সেলেসাওরা। বিশেষ করে ১৯৭০ সালের ব্রাজিল দলকে অনেকেই ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা দল হিসেবে বিবেচনা করেন।

আরও পড়ুন

আর্জেন্টিনার জয়ের রাতে অস্বস্তি, মেসিদের পাসপোর্টের তথ্য ফাঁস

তবে সাফল্যের পাশাপাশি এই জার্সি সাক্ষী হয়েছে বেদনাদায়ক মুহূর্তেরও। ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের পরাজয় আবারও ১৯৫০ সালের ট্র্যাজেডির স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।

তবুও ব্রাজিলের হলুদ জার্সি আজও ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক। এটি শুধু একটি পোশাক নয়; এটি ইতিহাস, আবেগ, সংস্কৃতি এবং বিশ্বজয়ের স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। আর সেই কারণেই প্রতি বিশ্বকাপ এলেই নতুন করে উচ্চারিত হয় এক প্রশ্ন— এই ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সি পরে ব্রাজিল কি আবারও বিশ্বকাপের ষষ্ঠ শিরোপা জিততে পারবে?

ভোরের আকাশ/সু.পা

ফিফা বিশ্বকাপ

শেয়ার করুন: