দেড় দিনে শেষ হওয়া ম্যাকাই পিচকে ‘ভেরি গুড’ স্বীকৃতি!

দেড় দিনেই শেষ হয়েছিল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। মাত্র পাঁচ সেশনে খেলা হয়েছে ১২৫ ওভার, পড়েছে ৩০টি উইকেট। এমন উইকেটে যেখানে ব্যাটারদের টিকে থাকাই ছিল কঠিন, সেই ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার পিচই পেতে যাচ্ছে ‘সর্বোচ্চ মানের’ স্বীকৃতি।
সেভেন ক্রিকেটের প্রধান ক্রিকেট প্রতিবেদক টম মরিস জানিয়েছেন, ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসন ম্যাকাইয়ের পিচকে ‘ভেরি গুড’ বা ‘খুব ভালো’ গ্রেড দেওয়ার সুপারিশ করতে যাচ্ছেন। তবে এই মূল্যায়ন চূড়ান্ত হতে হলে আইসিসির অনুমোদন প্রয়োজন।
টেস্ট ক্রিকেটে পিচের জন্য চার ধরনের গ্রেড রয়েছে। এর মধ্যে ‘ভেরি গুড’ সর্বোচ্চ গ্রেড। এই গ্রেডের পিচে ম্যাচের শুরুতে ভালো ক্যারি, সীমিত সিম মুভমেন্ট এবং ধারাবাহিক বাউন্স থাকার কথা। অর্থাৎ ব্যাটার ও বোলার—উভয় পক্ষেরই লড়াইয়ের সুযোগ থাকে।
তবে ম্যাকাইয়ে ব্যাটারদের জন্য সেই লড়াই ছিল বেশ কঠিন। অভিষেক টেস্টের প্রথম দিনেই পড়েছিল ১৮টি উইকেট। টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে অস্ট্রেলিয়াও স্বস্তিতে ছিল না। ১৬৫ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ার বাকি দুই উইকেট এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসও দ্রুত শেষ হয়ে যায়। বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ৯৫ রানে। ফলে ইনিংস ও ৫১ রানে জিতে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে অস্ট্রেলিয়া। ডারউইনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছিল ৯ উইকেটে।
ম্যাচ শেষে পিচ নিয়ে তৈরি হয় দুই ধরনের মত। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স উইকেটটিকে ‘খুব ভালো’ বললেও বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর চোখে ছিল ভিন্ন চিত্র। এমন কঠিন উইকেটকে মনে রাখার মতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শান্তর যুক্তিটাও ছিল পরিষ্কার। উপমহাদেশে এক দিনে ১৮-১৯টি উইকেট পড়লে যেমন উইকেট নিয়ে আলোচনা হয়, ম্যাকাইয়েও প্রথম দিনে পড়েছে ১৮টি উইকেট। তবে শুধু বাংলাদেশের ব্যাটাররাই নয়, একই উইকেটে সমস্যায় পড়তে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদেরও।
শেষ পর্যন্ত দুই দলের ব্যাটারদের জন্য কঠিন হলেও বোলারদের জন্য সহায়ক এই পিচ ‘ভেরি গুড’ গ্রেড পেতে যাচ্ছে—যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখনো আইসিসির অনুমোদন বাকি।
ভোরের আকাশ/সু.পা