লাতিন আমেরিকার জয়খরা কাটাতে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাঠে নেমেছে দক্ষিণ আমেরিকা বা লাতিন অঞ্চলের চারটি দেশ। তবে তাদের কেউই জয় তুলে নিতে পারেনি। ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ড্র করেছে, আর প্যারাগুয়ে ও ইকুয়েডরকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হার নিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বুধবার (১৬ জুন) আলজেরিয়ার বিপক্ষে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করতে যাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির আগে ইতিহাসের একটি অস্বস্তিকর অধ্যায়ও সামনে চলে এসেছে আলবিসেলেস্তেদের।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়া এখনও নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেনি। যদি এই দুই দলও জয় দিয়ে শুরু করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ১৯৭৪ বিশ্বকাপের একটি বিরল ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। সেই আসরে অংশ নেওয়া লাতিন আমেরিকার চারটি দেশই নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পায়নি। শেষ পর্যন্ত ওই টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছিল স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানি।
১৯৭৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল তাদের প্রথম ম্যাচে যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। আর্জেন্টিনা পোল্যান্ডের কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায়। চিলি পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ এবং উরুগুয়ে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। শুধু প্রথম ম্যাচেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টেও হতাশাজনক ফল করে লাতিন দেশগুলো। ব্রাজিল সর্বোচ্চ চতুর্থ স্থান অর্জন করলেও আর্জেন্টিনা অষ্টম, চিলি ১৩তম এবং উরুগুয়ে ১৯তম স্থানে থেকে আসর শেষ করে।
চলমান বিশ্বকাপে লাতিন দেশগুলোর হতাশার সূচনা করে প্যারাগুয়ে। লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-১ গোলে হেরে যায় তারা। ম্যাচজুড়ে নিজেদের সামর্থ্যের ছাপও রাখতে পারেনি দলটি। এরপর ব্রাজিল মরক্কোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ১-১ গোলে ড্র করে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
ইকুয়েডরও ভালো ফুটবল খেললেও সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারায় আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। অন্যদিকে উরুগুয়ে সৌদি আরবের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে সমতা ফেরায়। তবে শক্তির বিচারে এগিয়ে থাকা দলটির জন্য এই ফলাফলকে হতাশাজনকই ধরা হচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টিনার দিকে তাকিয়ে আছে লাতিন আমেরিকার ফুটবল সমর্থকরা। কারণ তাদের সামনে রয়েছে সাম্প্রতিক অতীতের একটি সতর্কবার্তাও। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। যদিও পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জিতেছিল লিওনেল স্কালোনির দল।
তাই আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের নতুন মিশনের সূচনা নয়, বরং লাতিন আমেরিকার চলমান জয়খরা কাটানোরও একটি বড় সুযোগ।
ভোরের আকাশ/সু.পা