৬ অক্টোবর ব্রাজিল-বাংলাদেশ ম্যাচের সম্ভাবনা!

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ভারত সফরের পাশাপাশি বাংলাদেশ নিয়েও পরিকল্পনা করছে ব্রাজিল। এরই অংশ হিসেবে আকস্মিকভাবে রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকায় আসে দেশটির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
ঢাকায় এসে প্রতিনিধি দলটি জাতীয় স্টেডিয়াম ও কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করে। পরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফা উইন্ডো। এই সময়ে একটি দল সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলতে পারে। ব্রাজিল ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। এরপর ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের মুখোমুখি হবে দলটি।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ফিফা উইন্ডোর শেষ দিন ৬ অক্টোবর বাংলাদেশে এসে জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলতে আগ্রহী ব্রাজিল। তবে ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল কিংবা বাফুফে—কোনো পক্ষই এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
তবে বাংলাদেশকে নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিল সমীকরণ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ফিফা-তত্ত্বাবধানে আয়োজিত আসিয়ান কাপ। সেখানে বাংলাদেশের অন্তত চারটি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।
টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ ও স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ ৩ অক্টোবর রাতে অথবা ৪ অক্টোবর দেশে ফিরতে পারে। সে ক্ষেত্রে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোতে একটি দল সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলতে পারে। আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ হয়ে গেলে ৬ অক্টোবর ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি ফিফার স্বীকৃতি পাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে বাফুফেকেও বেশ কিছু সমীকরণ বিবেচনা করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ যদি ৬ অক্টোবর ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে সম্মতি দেয়, তাহলে আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর সূচি নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে ব্রাজিলের প্রস্তাব নিয়ে বাফুফে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
এদিকে ব্রাজিলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা বাফুফের জন্য ব্যয়বহুল হবে। তবে কলকাতায় ব্রাজিলের সফরের সঙ্গে ঢাকাকে যুক্ত করা গেলে ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের প্রায় ৯০ সদস্যের কন্টিনজেন্টকে কলকাতা থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে দুবাইয়ে চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হতে পারে। এর সঙ্গে অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও থাকবে। তবে সরাসরি ব্রাজিল থেকে দলকে বাংলাদেশে আনার তুলনায় এই ব্যয় অনেক কম হবে।
সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামের মাঠ ও পরিবেশ নিয়ে ব্রাজিলের অসন্তুষ্টির খবর প্রকাশিত হয়। এ কারণে ব্রাজিল ঢাকায় আসতে পারে—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। তবে ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নির্ধারিত থাকায় শুধু মাঠ নিয়ে অসন্তুষ্টির কারণে বাংলাদেশে আসার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ছিল।
এখন ঢাকায় ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের আকস্মিক সফরের পর পরিস্থিতি কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পাশাপাশি বাংলাদেশ নিয়েও ব্রাজিলের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচ শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে কি না, তা নির্ভর করছে ফিফা সূচি, আসিয়ান কাপ এবং দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের ওপর।
ভোরের আকাশ/সু.পা