ইতিহাস গড়া হলো না শান্তর

পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে আবারও ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও শতকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত আর তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি বাঁ-হাতি এই ব্যাটারের। ১৫০ বল মোকাবিলা করে ৮৭ রান করে ফিরতে হয়েছে তাকে। এতে শুধু আরেকটি সেঞ্চুরিই হাতছাড়া হয়নি, ভেঙে গেছে একটি সম্ভাব্য বিশ্বরেকর্ড গড়ার স্বপ্নও।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তানকে কঠিন লক্ষ্য দিতে চেয়েছিল। সেই পথে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন শান্ত। কিন্তু নোমান আলির করা ৬৮তম ওভারের প্রথম বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। বল গিয়ে লাগে প্যাডে, জোরালো আবেদনে আঙুল তোলেন আম্পায়ার। পরে রিভিউ নিলেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ফলে সেঞ্চুরি থেকে ১৩ রান দূরেই থামতে হয় টাইগার অধিনায়ককে।
এর আগে টেস্ট ক্যারিয়ারে দুইবার একই ম্যাচের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে করেছিলেন ১৪৬ ও ১২৪ রান। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল রেকর্ড ৫৪৬ রানে। এরপর ২০২৫ সালে গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি, যেখানে তার সংগ্রহ ছিল ১৪৮ ও ১২৫ রান।
মিরপুর টেস্টে আরেকবার জোড়া সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন শান্ত। যদি এবারও দুই ইনিংসে শতক করতে পারতেন, তাহলে বিশ্বের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে তিনটি আলাদা টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি গড়তেন তিনি। বর্তমানে এই বিরল রেকর্ডে আছেন কেবল- সুনীল গাভাস্কার, রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নার।
শান্তর বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি বাংলাদেশের ইনিংস। ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিডসহ পাকিস্তানের সামনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে শান্তর ৮৭ রানের পাশাপাশি মুমিনুল হক করেন ৫৬ রান। পাকিস্তানের হয়ে হাসান আলি ও নোমান আলি নেন তিনটি করে উইকেট।
ভোরের আকাশ/সু.পা