মিয়ানমার সফর শেষে জাতীয় দলের অনুশীলনে ঋতুপর্ণা

মিয়ানমারের ঘরোয়া লিগ ও এএফসি ওমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ব্যস্ততা শেষে দেশে ফিরে জাতীয় নারী ফুটবল দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন তারকা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা। বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশে ফেরার পর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অন্যতম প্রধান এই নির্ভরতা।
১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। হাংজুতে অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের আসর পর্যন্ত প্রতিটি গেমসেই পুরুষ ফুটবল দল অংশ নিয়েছে। তবে এবার এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্টের মূল পর্বে খেলা দলগুলোই এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবল দল খেলতে পারছে না। বিপরীতে, এশিয়া কাপের মূল পর্বে খেলার সুবাদে নারী ফুটবল দল এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। তবে ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হবে তার পাঁচ দিন আগে। এ কারণে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল আগামী ১১ সেপ্টেম্বর জাপানে পৌঁছাবে। গেমসের মূল ভেন্যু নাগোয়ায় হলেও নারী ফুটবলে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো হবে পাশের শহর ওসাকায়।
বাংলাদেশের নারী দলের গ্রুপে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে নিজেদের প্রস্তুত করতে ১ সেপ্টেম্বর চীনের উদ্দেশে রওনা হবে বাংলাদেশ দল। সেখানে কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ১১ সেপ্টেম্বর নাগোয়ায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সাধারণত ফুটবলে চূড়ান্ত স্কোয়াড হয় ২৩ সদস্যের। তবে এশিয়ান গেমসে ফুটবলে ২০ সদস্যের দল পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। বাফুফের অনুরোধে এবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজকদের কাছ থেকে ২৩ জন ফুটবলারের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড চূড়ান্ত করেছে।
তবে অ্যাক্রিডিটেশনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ২৭টি ফেডারেশনের কমিটিতে পরিবর্তন আসে। এরপর বিভিন্ন ফেডারেশন থেকে কোচ, কর্মকর্তা ও খেলোয়াড় পরিবর্তনের আবেদন করা হয়। দীর্ঘ তালিকায় নাম থাকায় হকি খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি, কোচ পিটারসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ২০ জনের বেশি খেলোয়াড় ও কোচের এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করেন।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের কন্টিনজেন্টের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। তবে নতুন করে আবেদন করা ২৩ জনের কার্ড ঢাকায় আসবে না। তাদের জাপানের ভিসা নিয়ে সরাসরি যেতে হবে।
এতে নতুন করে জটিলতায় পড়েছেন বাংলাদেশ হকি দলের তারকা খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি। আগামী ২ অক্টোবর হকি দলের চীনে যাওয়ার কথা রয়েছে। জাপানের ভিসার জন্য আবেদন করলে তার পাসপোর্ট ঢাকায় জাপান দূতাবাসে জমা থাকবে। ফলে নির্ধারিত সময়ে চীন যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
জিমি চীনে না গেলে সেখানে হকি দলের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইস্তিয়াক সাদেক বলেন, “জাপানের ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া চলছে। কর্মকর্তা যাদের জাপানের ভিসা লাগবে, তারা চীন যাবে না। এতে কন্টিনজেন্ট সংক্ষিপ্ত হবে।
দীর্ঘ তালিকায় মিমোর নাম থাকলেও তার ভিসা লাগছে না। খেলোয়াড়দের মধ্যে শুধু জিমির ভিসা প্রয়োজন। ভিসা আবেদন করে চীন সফর শেষে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হবে, অথবা চীনে জাপান দূতাবাস থেকে ভিসা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এখন পর্যন্ত জিমিকে নিয়েই চীন যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেখা যাক, কী হয়।”
ভোরের আকাশ/সু.পা