ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপের সুযোগ নিন

বর্তমান সময়ে চাকরির বাজারে শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়। বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সবার পক্ষে বড় শহরে বা দূরে গিয়ে ইন্টার্নশিপ করা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপ হতে পারে সহজ বিকল্প।
ইন্টার্নশিপ বলতেই আমরা বুঝি অফিসে গিয়ে কাজ শেখা। বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতার জন্য অনেক ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপ বেশ কার্যকরী। নতুন জায়গা ও নতুন মানুষের সঙ্গে কাজ শিখতে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। কিন্তু অন্য সব ক্ষেত্রের মতো এখানেও পড়েছে প্রযুক্তির ছোঁয়া।
এখন শিক্ষার্থীদের কাজ শেখার নতুন দরজা খুলেছে ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপ। এই পদ্ধতিতে আপনাকে স্বশরীরে অফিসে উপস্থিত হতে হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই কাজ করতে বা শিখতে পারবেন। এ ছাড়া দলগতভাবে প্রজেক্টেও অংশ নেওয়া যাবে। দলীয় সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বা আইডিয়াও বিনিময় করা যাবে। এর জন্য আপনার কাছে কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ আর কিছু প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার থাকলেই চলবে। বর্তমান সময়ে চাকরির বাজারে শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়। বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বাজারের চাহিদা অনুপাতে ইন্টার্নশিপের অফার করে না। আবার অনেক শিক্ষার্থীই চান পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা নিতে। কিন্তু সবার পক্ষে বড় শহরে গিয়ে ইন্টার্নশিপ করা সম্ভব হয় না। এখানেই ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপ বড় ভূমিকা রাখে। এটি একদিকে শিক্ষার্থীদের কাজ শেখার সুযোগ দেয়, অন্যদিকে সময়, জায়গা ও অবস্থার সীমাবদ্ধতাও কমিয়ে আনে।
ঢাকার বাইরে কোনো শহরে থেকেও একজন শিক্ষার্থী চাইলে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। অনেক সময় একই টিমে ভিন্ন দেশের মানুষও থাকতে পারে। ফলে কাজের পরিবেশটাও হয়ে ওঠে বেশ বৈচিত্র্যময়। বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ইন্টার্ন নিয়োগ দেয়। নির্বাচনের পর ইন্টার্নদের একটি নির্দিষ্ট টিমে যুক্ত করা হয়। কাজের ধরন অনুযায়ী তাঁদের দায়িত্ব দিয়ে কাজ পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রতিদিন বা সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময় অনলাইন মিটিং হয়। সেখানে সবার কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নতুন কাজে যুক্ত করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি চালাতে বিভিন্ন ডিজিটাল টুল ব্যবহার করা হয়। যেমন—দলগত যোগাযোগের জন্য স্ল্যাক বা মাইক্রোসফট টিমস, কাজের তালিকা ও অগ্রগতি দেখার জন্য ট্রেলো, অসানা বা নোটিওন। মিটিং করার জন্য ব্যবহূত হয় জুম কিংবা গুগল মিট। এই সফটওয়্যারগুলো সহজলভ্য। কাজের ধরন অনুযায়ী আরো অনেক টুলের ব্যবহার হয়।
যেমন কোডিং বা সফটওয়্যার প্রজেক্টের ক্ষেত্রে গিটহাব, ডিজাইন বা ইউজার ইন্টারফেস তৈরির জন্য ফিগমা আর কনটেন্ট বা ভিজ্যুয়াল তৈরির জন্য ক্যানভা। ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপ শুধু একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁদের ক্ষেত্র অনুযায়ী এখানে অংশ নিতে পারেন। যেমন—কম্পিউটার সায়েন্স বা সফটওয়্যার সংশ্লিষ্ট বিভাগ। যেমন সিএসই বা আইসিই-এর শিক্ষার্থীরা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডেটা অ্যানালিসিস, মেশিন লার্নিং কিংবা ওপেন সোর্স প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। এখানে তাঁরা কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান, যা ভবিষ্যতের চাকরির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণা, সিমুলেশন প্রজেক্ট, ডেটা অ্যানালিসিস বা টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন সংক্রান্ত কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।
অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এখন রিমোট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও শিক্ষার্থীদের যুক্ত করছে। এ ধরনের চাকরির হার দিন দিন বাড়ছেই। বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপের সুযোগ আগে থেকেই। ডিজিটাল মার্কেটিং, মার্কেট রিসার্চ, বিজনেস অ্যানালিসিস, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, স্টার্টআপ অপারেশন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের মতো ক্ষেত্রগুলোতে তাঁরা কাজ করতে পারেন। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই। কনটেন্ট রাইটিং, গবেষণা সহায়তা, অনলাইন মিডিয়া কাজ, ট্রান্সলেশন বা যোগাযোগভিত্তিক অনেক কাজ এখন ভার্চুয়ালি করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা খুব স্বাচ্ছন্দ্যে এসব কাজ করতে পারেন। ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—ঘরে বসে সময়-সুযোগমতো কাজ করা যায়। যাতায়াতের ঝামেলা নেই, সময় অনেক ক্ষেত্রে নিজের মতো করে সাজানো যায়।
এই পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও তৈরি হয়, যা শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বিস্তৃত করে। নতুন এই অভিজ্ঞতার ফলে সিভিও ভারী হয়। তবে এত সুবিধার মধ্যেও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সরাসরি অফিস পরিবেশের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় না। কোনো কাজে আটকে গেলে হাতে-কলমে শেখা বা চটজলদি পরামর্শ পাওয়া যায় না। ফলে নিজের দায়িত্ব অনেক সময় নিজেকেই সামাল দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভাবেন, পড়াশোনার পাশাপাশি কিভাবে বাস্তব দক্ষতা অর্জন করা যায়। ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপ তাঁদের জন্য ভালো একটি অপশন। এখানে কাজ শেখার পাশাপাশি যোগাযোগ, দলগত কাজ ও সময় ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা তৈরি হয়, যা বাস্তব জীবনে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
অনেক সময় একটি ছোট ভার্চুয়াল ইন্টার্নশিপ থেকেই শুরু হয় বড় ক্যারিয়ারের যাত্রা। কারণ বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা সব সময় বইয়ের পাতার চেয়ে একটু বেশি শেখায়। আর সেই শেখাটাই ভবিষ্যতের পথকে অনেক বেশি পরিষ্কার করে দেয়। তাই শিক্ষার্থী সবাইকে সব রকম ইন্টার্নশিপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
ভোরের আকাশ/এনউব