বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র: রাষ্ট্রদূত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে তার দেশ কোনো রাজনৈতিক পক্ষের অবস্থান নেবে না।
বুধবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “নির্বাচনের ফল কী হবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণেরই রয়েছে।”
এর আগে, এক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ফল করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে ইসলামপন্থি দলটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ক্রিস্টেনসেন বলছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে জনগণের ভোটের রায়ই দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
“বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারকেই নির্বাচিত করুক, আমরা ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে অগ্রগতি জানতে এদিন নির্বাচন কমিশনে আসেন ক্রিস্টেনসেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমি আগামী নির্বাচন নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত এবং নির্বাচনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছি।”
গেল সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে নির্বাচনের দিনটি হবে উৎসবমুখর। আমিও সেই আশাই করি। আমি আশা করি এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে, যেখানে বাংলাদেশের জনগণ তাদের মত প্রকাশ করতে পারবে এবং আপনারা একটি খুব সফল নির্বাচন আয়োজন করতে পারবেন।”
সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতে মার্কিন কূটনীতিকদের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ইসি সচিব আখতার আহমেদও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
পোস্টাল ব্যালট ও আচরণবিধি নিয়ে আগ্রহ
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ ও গণভোটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জেনেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দল। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আগ্রহ ছিল বেশি। কীভাবে পোস্টাল ব্যালট আসছে, গণনা কীভাবে হবে–সার্বিক বিষয়ে তারা জেনেছেন।
“আমরা পোস্টাল ব্যালটের নমুনা নিয়ে সব দেখিয়েছি। কীভাবে ভোট কাউন্ট করা হবে, কোথায় আসবে, রেফারেন্ডামের ব্যালটের সাথে গণনার সময়সীমা কত, ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়, যেগুলো জানতে চেয়েছেন তিনি। উনারা বলেছেন, ‘এটা বেশি জটিল ও কষ্টসাধ্য বাপার; গুডলাক’।”
ভোটের মাঠে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাও জানতে চেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
সচিব জানান, “তারা জানতে চেয়েছেন কোড অফ কন্ডাক্টের কথা, যে বিষয়গুলো আসছে, এগুলো এখানে কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সেল আছে, ইনকয়ারি কমিটি, ম্যাজিস্ট্রেট যারা আছেন, তাদের সাথে যোগাযোগ করে জিনিসগুলো সমন্বয় করা হচ্ছে।
“আরেকটা জিনিস জানতে চাচ্ছিলেন, যে কোনো জায়গায় কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কারো কাছ থেকে কোনো বাড়াবাড়ির কোনো খবর আছে কিনা। আমি বললাম যে, দেখেন, প্রাথমিকভাবে স্থানীয়ভাবে আমাদের এখানে যে খবর আসে, এমন কোনো কিছু আমাদের নলেজে নাই। যদি এটা হয়ে থাকে, তাহলে স্থানীয়ভাবে এটার নিষ্পত্তি করা হয়েছে।”
ইসি সচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবার কোনো পর্যবেক্ষক আসছেন না। তবে দূতাবাস থেকে প্রতিনিধিরা ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনায় পর্যবেক্ষণে যাবেন এবং এ বিষয়ে ইসি সহযোগিতা করবে।
“ভোটকেন্দ্র, যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে তারা জানতে চেয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চেয়েছেন। তাদের জানিয়েছি, প্রায় সাড়ে ৯ লাখ সিকিউরিটি পারসোনেল থাকবে।"
ভোরের আকাশ/এনএস