দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন ‘শুট দ্য মেসেঞ্জার’ প্রবণতা: টিআইবি

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সংবিধানসম্মত নয়। এ বিষয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে অবস্থান ব্যাখ্যা না করে পদ গ্রহণ করাও প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ জনস্বার্থে সংবাদকর্মীরা যখন সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছেন, প্রতিমন্ত্রী তার উত্তর না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন তুলেছেন।’
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন করাকে 'শুট দ্য মেসেঞ্জার' চর্চার দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের আচরণ মুক্ত গণমাধ্যম, স্বাধীন সাংবাদিকতা, বাক্স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের প্রতি সরাসরি হুমকি। একইসঙ্গে, এমন আত্মঘাতী প্রয়াস পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, 'টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সংবিধানসম্মত নয়। এ বিষয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে অবস্থান ব্যাখ্যা না করে পদ গ্রহণ করাও প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ জনস্বার্থে সংবাদকর্মীরা যখন সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছেন, প্রতিমন্ত্রী তার উত্তর না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন তুলেছেন।'
টিআইবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব ও সংশ্লিষ্ট দেশের সক্রিয় রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নন—এমন ব্যক্তিকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে হলে তাকে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে। আবার ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনকারী বা আনুগত্য স্বীকারকারী ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য। একইসঙ্গে ৬৬(২ক) অনুচ্ছেদে দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি সুস্পষ্ট করা হয়েছে।'
টিআইবি মনে করে, দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকা অবস্থায় টেকনোক্র্যাট কোটায় তার নিয়োগ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে পদ গ্রহণ করায় তিনি নিজেই নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী 'কে নিউজ করছে' এবং 'কার এত জ্বালা' বলে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তাকে পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলের 'শুট দ্য মেসেঞ্জার' চর্চার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে টিআইবি। ড. জামান বলেন, 'সংবাদটি কে করেছে তা এখানে মুখ্য নয়; মূল প্রশ্ন হলো—দায়িত্ব গ্রহণের সময় তার বিদেশি নাগরিকত্ব বহাল ছিল কিনা। এমন একটি সাংবিধানিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া তার দায়িত্ব ছিল।'
ভোরের আকাশ/এনএস