ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি, গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা

দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ)তে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য গ্রাহকের ওপর পড়েছে। বুধবার দুপুরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যার কারণে সংশ্লিষ্ট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর প্রভাবে কয়েকটি অঞ্চলে সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস সংগ্রহ করতে না পারায় দীর্ঘ সারি ও সাময়িক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, এফএসআরইউটির কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত গ্যাস সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা হলেও দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর একটি ইউনিটে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদিন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি অনুসন্ধান কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের লক্ষ্যে অনশোর ও অফশোর মডেল পিএসসির আওতায় দরপত্র আহ্বান এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তবে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, কূপ খনন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে সময় প্রয়োজন। তাই দীর্ঘদিনের সংকটের স্থায়ী সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব না হলেও সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই, ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার জন্য পাইপলাইনসহ পরিবহনব্যবস্থা পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার এবং জ্বালানি আমদানির উৎস ও অবকাঠামো বহুমুখীকরণ।
জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা সমাধান হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাময়িক এ দুর্ভোগের জন্য গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
ভোরের আকাশ/এনএস