শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ-চীন ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সরব ভারতীয় গণমাধ্যম

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। মোংলা বন্দরের অর্থনৈতিক অঞ্চল, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে নয়াদিল্লিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ধীরে ধীরে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে। এই পরিবর্তন ভারতের দীর্ঘদিনের প্রভাববলয়ের জন্য নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

### মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে উদ্বেগ

শুক্রবার (২৬ জুন) **টাইমস অব ইন্ডিয়া** জানিয়েছে, বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীন চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর আগে ওই জমি ভারতের জন্য বরাদ্দ থাকলেও ২০২৫ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সেই বরাদ্দ বাতিল করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলাকে কেন্দ্র করে চীনের এই বিনিয়োগ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে বেইজিংয়ের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। পাকিস্তানের গোয়াদর থেকে আফ্রিকার জিবুতি পর্যন্ত চীনের বন্দরভিত্তিক বিনিয়োগ কৌশলের ধারাবাহিকতায় মোংলাকেও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে **ইন্ডিয়া টুডে** প্রশ্ন তুলেছে, ভারতের কি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? তাদের মতে, এটি শুধু একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প হারানোর বিষয় নয়; বরং ভারতের পূর্ব উপকূলের কাছে চীনের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির সম্ভাবনাও তৈরি করছে।

### তিস্তা প্রকল্পে বাড়ছে সংবেদনশীলতা

চীন সফরে তারেক রহমান তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে বেইজিংয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন। বিষয়টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

**দ্য হিন্দু** লিখেছে, তিস্তা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শেখ হাসিনা সরকার এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেও বর্তমান সরকার নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে।

**দ্য প্রিন্ট**-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তিস্তা নদী পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং এর অবস্থান ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর খুব কাছাকাছি। ফলে ওই অঞ্চলে চীনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নয়াদিল্লির জন্য কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল।

### ১৩ সমঝোতা স্মারক ও নতুন করিডোর

**এনডিটিভি** ও **ইন্ডিয়া টুডে** জানিয়েছে, সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং নদী ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে এসব সমঝোতা হয়েছে।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে চট্টগ্রাম ও মোংলায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর মতে, এটি পূর্বের বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) করিডোরের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ হতে পারে।

### প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা

**এনডিটিভি**র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ২৪টি চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ হবে এই মডেলের দ্বিতীয় বিদেশি ব্যবহারকারী।

এছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ চালুর লক্ষ্যে ‘টু প্লাস টু’ কাঠামো নিয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এ বক্তব্যকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।

### ভারতের উদ্বেগ কতটা বাস্তব?

**আউটলুক** ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারতের উদ্বেগ মূলত অর্থনৈতিক নয়; বরং নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত। মোংলা বন্দর, তিস্তা প্রকল্প এবং লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি ঘিরে সম্ভাব্য চীনা সম্পৃক্ততা নয়াদিল্লির জন্য নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

তবে ভারতও সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগী হয়েছে। দেশটির নতুন হাইকমিশনার পর্যটক ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। একদিকে চীনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা গ্রহণ, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক বজায় রাখার নীতিই অনুসরণ করছে ঢাকা।

আরও পড়ুন

ভারতের সম্মাননায় কী বললেন ট্রাম্প?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের এই সফরকে শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক সফর নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে সম্ভাব্য পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও মূল্যায়ন করছে।

ভোরের আকাশ/জেআ

 

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কতারেক রহমান

শেয়ার করুন: