সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সাথে জাইকা'র প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপির সঙ্গে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। জাইকার বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ইয়াসমীন পারভীন এনডিসি উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা, নারী শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ, কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন ও ডিএনএ ল্যাবের কার্যক্রম শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী জাপান ও জাইকাকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদারত্ব রাখার জন্য জাইকাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারী ও শিশুসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে তৃণমূল নারীদের জীবনমান ও দক্ষতা বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাইকার কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সরকারের একটি সিগনেচার প্রজেক্ট। এটি সরকারের কোনো ব্যয় নয়, বরং একটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ। এ কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ নারীরা পরিবারের পুষ্টিকর খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে ব্যবহার করতে পারছেন বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে দক্ষ কেয়ারগিভারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দক্ষ কেয়ারগিভার তৈরি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়। এ ক্ষেত্রে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পাশাপাশি বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প জাপানের বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা চান মন্ত্রী।
জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো বাংলাদেশে সংস্থাটির বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, নারী ও শিশুর কল্যাণ, কক্সবাজার অঞ্চলের প্রান্তিক জেলেদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নারীদের কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাইকা কাজ করছে।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাকাহাশি জুনকো। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন জাইকার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
বৈঠকের এক পর্যায়ে মন্ত্রী জাইকাকে অবকাঠামো খাতের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
ভোরের আকাশ/জেআ