ভূমি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে শতভাগ সেবা ডিজিটাইজেশনের সুপারিশ

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দেশের ভূমি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে সব ধরনের সেবা শতভাগ ডিজিটাইজেশন (ডিজিটালকরণ) করার জোর সুপারিশ করেছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিভিন্ন বৈঠকে এই তাগিদ দেওয়া হয়। কমিটির মূল উদ্দেশ্য হলো—নামজারি (মিউটেশন), খতিয়ান, ভূমির উন্নয়ন কর (ভূমি খাজনা) প্রদান এবং পর্চা তোলার মতো মৌলিক সেবাগুলোকে পুরোপুরি পেপারলেস বা অনলাইন ভিত্তিক করা, যাতে সাধারণ মানুষকে আর দালাল চক্র বা মধ্যস্বত্বভোগীদের হয়রানির শিকার হতে না হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমি ভবন পরিদর্শনের সময় সংসদীয় কমিটির সভাপতি নাসের রহমান এই তাগিদ দেন।
পরিদর্শকালে কমিটির সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, সুলতানা আহমেদ এবং মুহাম্মদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের শুরুতেই ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের নানা দিক কমিটির সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়, বর্তমানে ভূমি অফিস, ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস এবং উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস ইলেকট্রনিক্যালি যুগপৎভাবে কাজ করছে। ফলে, নাগরিকরা এখন খুব সহজেই ভূমি সংক্রান্ত সব ধরনের হালনাগাদ তথ্যাদি ও সেবা এক জায়গা থেকেই দেখতে এবং পেতে সক্ষম হচ্ছেন।
চলমান কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি ভূমিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবাগুলোকে আরও বেগবান করার তাগিদ দিয়েছে কমিটি। বিশেষ করে খতিয়ান ও রেকর্ড সংশোধন, রেকর্ড হালনাগাদকরণ, ই-নামজারি, জমাভাগ ও জমা একত্রীকরণ, রেকর্ড সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় এবং রেন্ট সার্টিফিকেট মামলার মতো স্পর্শকাতর কার্যক্রমগুলোর গতি বাড়াতে জোর সুপারিশ করা হয়।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি নাসের রহমান বলেন, একটি সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের ভূমি সংক্রান্ত হয়রানি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব। তিনি ভূমি ব্যবস্থাপনায় চলমান অটোমেশন সফ্টওয়্যার সঠিকভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে সব ভূমি অফিসের কাজের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরামর্শ দেন।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ভূমির জটিলতা নিরসনেও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্থায়ী কমিটি। পরিদর্শনের সময় কমিটির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন সীমানা দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ট্রাভার্স ও প্রস্তুতিমূলক কার্যাদি সম্পন্নকরণ, সঠিক ম্যাপ প্রস্তুতকরণ এবং কিস্তোয়ার সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত নকশা ও খতিয়ান মুদ্রণের সুপারিশ করা হয়েছে।
তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবন পরিদর্শনের সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/আ.র