গণভোট সচেতনতা
৩ মাসের প্রচারণার পরিকল্পনা

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন এবং গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এজন্য ব্যাপক প্রচারণার উদ্যোগসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের 'আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এর আলোকে দেশে পরবর্তী রাষ্ট্র ও সরকার ও গণমুখী প্রশাসন এবং বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যও জোরালোভাবে কাজ করছে সরকার। মূলত দুর্বৃত্ত এবং দুর্বৃত্তায়নমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। এজন্য নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিভাবে গ্রহণযোগ্য করতে সবদিক মিলিয়ে জোরালোভাবে কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, একইদিনে নির্বচন ও গণভোট আয়োজনে অধ্যাদেশও জারি করেছে সরকার। আর ভোটারদের সঠিকভাবে বোঝার সুবিধার্থে জাতীয় সংসদ ও গণভোটের জন্য আলাদা রং এর ব্যালটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সংসদের জন্য ‘সাদাকালো’ এবং গণভোটের ব্যালট ‘রঙ্গীন’ থাকবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া গণভোটের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সরকার আগামি তিন মাস ধরে ব্যাপক প্রচার চালানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এবারের একইদিনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন এবং গণভোটে প্রবাসীসহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। আর নির্বচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ বিভাগেও ব্যাপক রদবদল করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রেই গণভোটের জন্য আলাদা ব্যালটের ব্যবস্থা থাকবে। সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নিয়োগকৃত রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসাররাই গণভোটে রিটার্নিং অফিসার, পোলিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আর গণভোটে গণভোটে চারটি বিষয়ের প্রশ্নে দেশের ভোটাররা তাদের মতামত জানাবেন।
গত মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠানের বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে ‘গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। পরে ওইদিন রাতেই গণভোট-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের গেজেট জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, গণভোট কীভাবে গ্রহণ করা হবে-সে প্রক্রিয়ার বিস্তারিত উল্লেখ রেখে গণভোট অধ্যাদেশ চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। তবে গণভোটে মুল প্রশ্ন একটি থাকবে। প্রশ্নটা হচ্ছে-জুলাই জাতীয় সনদ আদেশ ও সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবে ভোটারের সম্মতি আছে কি-না। সেখানে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুটি বক্স থাকবে। সম্মতি জানালে ‘হ্যাঁ’ ভোট, অসম্মত হলে ‘না’ ভোট দেবে ভোটাররা।
এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ভোরের আকাশ’কে জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট এবং গণভোটের ব্যালট আলাদা আলাদা হবে। আর গণভোটের ব্যালট রঙিন হবে যাতে ভোটাররা বিভ্রান্ত না হন। এর মাধ্যমে ভোটাররা একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট প্রদানের সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা চালু হওয়ার ফলে বিশেষ পেশা বা কোনো কারণে যারা স্বশরীরে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবেন না, তারাও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। উল্লেখ্য, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একইদিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন (ইসি), সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সম্মিলিতভাবে গণভোটের প্রচার কার্যক্রমে অংশ নেবে। এ প্রচারের লক্ষ্য হলো গণভোটের প্রক্রিয়া, গুরুত্ব এবং পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবগত করা। আর গণভোটের প্রস্তাবগুলো হচ্ছে- নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদের আলোকে গঠন করা হবে; আগামী জাতীয় সংসদ হবে দু’কক্ষবিশিষ্ট এবং সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে; সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পিকার এবং কয়েকটি সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে, সেসব বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে এবং জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।
নির্বচনর কমিশন সূত্র জানায়, বর্তমান চুড়ান্ত ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হবে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। আর সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সময় এবং গণভোট গ্রহণের সময়সুচীও একই হবে। তবে কোনো কারণে ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হলে প্রিসাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে পারবেন।
এদিকে, ইসি সচিব আখতার হোসেন জানান, ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রভিত্তিক চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত হবে। এছাড়া ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালি, স্ট্যাম্পড পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটে দুই রঙের ব্যালট পেপার থাকবে-জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাদা পেজের ওপরে কালো প্রিন্টের ব্যালট পেপার। আর রঙিন কাগজ ব্যবহার করা হবে গণভোটের জন্য। প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে গণভোট দিতে পারবেন।
এছাড়া পোস্টাল ভোটিং এর জন্য গতকাল মধ্যরাত থেকে একযোগে সব প্রবাসী নিবন্ধন করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক সীমাবদ্ধতা এবং পাঁচ দিনের সময়সীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ঘোষণার ফলে এখন থেকে প্রবাসীরা বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে, যে কোনো সময় নিবন্ধন করতে পারবেন। এ নিবন্ধন আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
এ সময়ের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন প্রবাসীরা। গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, পূর্বনির্ধারিত পদ্ধতিতে বিশ্বকে আটটি অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য পাঁচ দিন করে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে গতকাল রাত ১২টার পর থেকে সেই অঞ্চলভিত্তিক সীমাবদ্ধতা এবং পাঁচ দিনের সময়সীমা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে তাদের সুবিধামতো সময়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে নিবন্ধনের শেষ তারিখ ১৮ ডিসেম্বর অপরিবর্তিত থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের উপায়সহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার ওই ভাষণের আগে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ আদেশ জারি করেন। আদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত করার কথা জানানো হয়। আর এর মধ্য দিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ আইনি ভিত্তি অর্জন করে।
পুলিশে ব্যাপক রদবদল: বদলি ও পদোন্নতি
এদিকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্নের জন্য পুলিশ বিভাগের মাঠপর্যায়ে ব্যাপক রদবদল-পদোন্নতির কার্যক্রম চালাচ্ছে সরকার। ডিআইজি পদে একযোগে ৩৩ জনের পদোন্নতি এবং ৬৪ জেলায় নতুন এসপি পদায়ন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ৩৩ কর্মকর্তাকে একযোগে উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দুটি প্রজ্ঞাপনের একটিতে ৩১ জনকে এবং অন্যটিতে দুইজনকে পদোন্নতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে।
একটি প্রজ্ঞাপনে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক এবং সিলেট আরআরএফের কম্যান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. হুমায়ুন কবীরকে সুপারনিউমারারি উপপুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতির কথা জানানো হয়। অন্য প্রজ্ঞাপনে ৩১ জনকে ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ যোগ দেওয়ার তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে দেশের ৬৪ জেলায় নতুন পুলিশ সুপারদের (এসপি) পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বিতর্কমুক্ত রাখতে লটারির মাধ্যমে এসপি নির্বাচন করার পর ৬৪ জেলায় নতুন এসপি পদায়নের এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (পুলিশ-১ শাখা) প্রজ্ঞাপনটি জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২৪ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় লটারি করে এসপি নির্বাচন করা হয়। এর দুই দিন পর তাঁদের পদায়ন করা হলো।
জানা গেছে, এসপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথমেই অতীতে এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন-এমন কর্মকর্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর পুলিশ ক্যাডারের ২৫, ২৭ ও ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি ‘ফিট লিস্ট’ প্রস্তুত করা হয়। সেই তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ম্যানুয়াল লটারির মাধ্যমে ৬৪ জনকে নির্বাচন করা হয়। পর্যায়ক্রমে তাদের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে।
সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা কমিটির হাতে দেওয়া হয়েছে এবং লটারির মাধ্যমে জেলাওয়ারি পদায়ন চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে গত সপ্তাহে ছয় জেলায় দেওয়া নতুন এসপি নিয়োগের যোগদান স্থগিতও রাখা হয় এবং তাদের ক্ষেত্রেও লটারির সিদ্ধান্ত হয়।
জানা গেছে, এসপি পদায়নের পর পরবর্তী ধাপে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়োগও লটারির ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে। সৎ, নিরপেক্ষ ও যোগ্য পরিদর্শকদের তালিকা এরই মধ্যে ইউনিট প্রধানদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সে তালিকা ধরে ‘ফিট লিস্ট’ তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জট মোচনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এছাড়া গত শনিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত দুই ঘণ্টার বৈঠকে নির্বাচনকালে পুলিশের নিয়োগ ও বদলি-সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় ২৩ নভেম্বর লটারি করে ৬৪ জেলার এসপি নির্বাচন করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনকেন্দ্রিক পুলিশিং নিয়ে যেকোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতেই সরকার লটারি পদ্ধতি নিয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ নিশ্চিত হবে বলে জানান তিনি।
৮২৬ বিচারকের পদোন্নতি
এদিকে, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বড় আকারে পদোন্নতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ৮২৬ জন কর্মকর্তাকে জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ ও যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা জজ থেকে জেলা জজ হয়েছেন ২৫০ জন, যুগ্ম জেলা জজ থেকে অতিরিক্ত জেলা জজ হয়েছেন ২৯৪ জন ও সিনিয়র সহকারী জজ থেকে যুগ্ম জেলা জজ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ২৮২ জন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ