জাতীয় সনদ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে: আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চলমান বৈঠকে জাতীয় সনদ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, আপনারা যে দায়িত্ব আমাদের দিয়েছেন, তার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আমরা চেষ্টা করছি এসব বিষয়ে দ্রুত ঐকমত্যে পৌঁছাতে এবং আগামীকালের মধ্যেই আপনাদের অবহিত করতে পারব।
বুধবার (৩০ জুলাই) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার শুরুর বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সব দল মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণের নীতিগত অবস্থানে একমত হয়েছেন। তবে সংবিধানে এই বিষয়ে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা নিয়ে কিছু ভিন্নমত রয়ে গেছে।
চারটি সাংবিধানিক নিয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের আলোচনায় চারটি সাংবিধানিক বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে- সরকারি কর্মকমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ন্যায়পাল। কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এ নিয়োগগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে একটি স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ও তার সমমনা কয়েকটি দল এ নিয়োগগুলো সংবিধানে না এনে আইনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের পক্ষপাতী। তবে অধিকাংশ দল সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদে সংশোধন এনে নিয়োগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পক্ষে।
দুদককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান করার পক্ষে অধিকাংশ দল ঐকমত্য জানিয়েছে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ব্যাপারে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। এতে যদিও বিএনপি কিছু ভিন্নমত পোষণ করেছে। তবুও আলোচনার ধারা ইতিবাচক মনে হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রস্তাব এখনো প্রস্তুত না হলেও বাকি বিষয়গুলোতে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চলছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ