ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় নাম থাকা অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকার পরও কেন তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না এবং তারা যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে এক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, অপরাধীর পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় নেওয়া হবে না। অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে। মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে একদল ব্যক্তি হামলা চালায় বলে অভিযোগ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের।
এ ঘটনায় পরদিন শাহ আলী থানায় মামলা করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। মামলায় হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ক্লিনিকের একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
ভোরের আকাশ/এনএস