প্রধান উপদেষ্টার কাছে নজরদারি প্রযুক্তি পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’ প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে। ১০ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে রাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতা, এর আইনি ও কারিগরি সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যমান কাঠামোর ঝুঁকি ও ঘাটতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও বিচারিক প্রয়োজনের বিষয় বিবেচনায় রেখে নাগরিকের গোপনীয়তার সাংবিধানিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষায় আটটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে আটটি সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়েছে।
কমিটি জানিয়েছে, গুম, বেআইনি আটকসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং অপরাধ দমন ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে নজরদারি ব্যবস্থার রাষ্ট্রীয় সাফল্য—এই দুই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। বিদ্যমান আইন, নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার আলোকে নজরদারি ব্যবস্থার শাসনগত ঘাটতি ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্র চিহ্নিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
প্রতিবেদনে বর্তমান স্বচ্ছতাহীন ও অসম্পূর্ণ কাঠামোর পরিবর্তে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক ‘দ্বিস্তরীয় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা’ (টু-লেয়ার ট্রান্সপারেন্সি) মডেলভিত্তিক একটি আধুনিক নজরদারি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিরীক্ষাভিত্তিক (অডিট-ড্রিভেন) তদারকি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ)–এর দিকনির্দেশনা, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
কমিটির সুপারিশের মধ্যে রয়েছে জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্তির প্রস্তাব এবং টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১–এর ৯৭, ৯৭ক, ৯৭খ ও ৯৭গ ধারা সংশোধনের বিস্তারিত রোডম্যাপ। সরকার ইতোমধ্যে এ–সংক্রান্ত সংশোধিত আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অধিকতর রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও অনুসন্ধানেরও সুপারিশ করেছে কমিটি।
প্রতিবেদনটির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারকে পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরস্পর–সম্পূরক হিসেবে দেখার একটি নীতিগত কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে বলে কমিটি উল্লেখ করেছে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ