নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস জানাতে সরকারি উদ্যোগ: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
তিনি বলেন, যাদের অবদান ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ ও গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে, শিশু-কিশোরদের তাদের সম্পর্কে জানানো জরুরি।
রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে লেখক ও সাংবাদিক সাবরিনা শুভ্রা রচিত ‘শহীদ জিয়ার গল্প শোনো’ ও ‘ছোটদের প্রিয় খালেদা জিয়া’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে প্রকাশনা সংস্থা ‘দশমিক’।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের জন্য বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস ও স্বাধীনতা অর্জনে যেসব মানুষের অবদান রয়েছে, তা তুলে ধরা প্রয়োজন। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত বই, লেখনী ও চলচ্চিত্র তৈরি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কাজ করছে জানিয়ে তিনি এ ধরনের উদ্যোগে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদের কাছে দেশের ইতিহাস সহজে পৌঁছে দিতে এ ধরনের বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। এতে তারা দেশের ইতিহাস ও জাতীয় নেতাদের অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কথা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের অবদান তুলে ধরা না হলে সময়ের সঙ্গে এসব ইতিহাস আড়ালে চলে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার যে অর্জন এসেছে, তা রক্ষা করতে হবে। দেশে যাতে পুনরায় ফ্যাসিবাদী পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রকাশনা সংস্থা ‘দশমিক’-এর স্বত্বাধিকারী দীপান্ত রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, এস এম জিলানী, কে এম বাবর ও মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আক্তার টপি এবং সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ।
এ ছাড়া লেখক কালাম ফারায়েজি, বই দুটির লেখক ও সাংবাদিক সাবরিনা শুভ্রা, কবি মিন্টু হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও তৌহিদুর রহমান আওয়াল বক্তব্য দেন।
ভোরের আকাশ/জেআ