অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ড. ইউনূসকে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের চিঠি

সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।
চিঠিতে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার এবং মানবাধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ড. ইউনূসকে পাঠানো এই চিঠিতে সই করেন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির র্যাংকিং মেম্বার গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা, একই উপকমিটির র্যাংকিং মেম্বার সিডনি কামলাগার-ডোভ, কংগ্রেসম্যান জুলি জনসন এবং টম আর সুওজি। এদিন হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি জাতীয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এমন সময় ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার সক্রিয় ভূমিকা নেবে।
মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা চিঠিতে উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। পাশাপাশি জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন।
চিঠিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থগিত বা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।তারা বলেন, ব্যক্তি-ভিত্তিক জবাবদিহিতা ও আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের মতামত শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশের সুযোগ দিতে নির্বাচন আয়োজনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। একই সঙ্গে সততা, স্বচ্ছতা ও নির্দলীয়ভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম স্থগিত রাখা কিংবা ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় চালু করা এসব লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তারা।
চিঠির শেষাংশে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের অধিকার রয়েছে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার, যেখানে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করতে পারবে। তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং দেশটির গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত।
ভোরের আকাশ/মো.আ.