নারীদের স্বাবলম্বী করতে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের উদ্যোগ

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে বাজারের চাহিদা বিবেচনায় যুগোপযোগী ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ের পারফরম্যান্স ও দক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট সমিতি ও সংস্থাগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
বুধবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ঢাকায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিগুলোর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর লক্ষ্য এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই সম্মিলিতভাবে দেশের সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করবে।
তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধর্ম, বর্ণ, পাহাড়ি-সমতল ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে নাগরিকদের সমান অধিকার ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সহায়তা স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের শুধু সনদ দেওয়ার মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; তাদের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত ও সহজে বাজারজাত করার জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, ব্যবসা শুরুর প্রয়োজনীয় সিড মানি (প্রারম্ভিক মূলধন) ও বহুমুখী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি জেলা পর্যায়ের ট্রেনিং সেন্টারগুলোকে আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষে সব প্রশিক্ষণার্থীর বিস্তারিত তথ্য এমআইএসে (MIS) যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী দ্রুত বিকাশমান ‘কেয়ার ইকোনমি’তে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে জেলা পর্যায়ে আধুনিক কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও নির্বিঘ্ন সেবা দিতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিদ্যমান শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কথাও জানান তিনি।
নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক প্রথা ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাধারণ অনুদানের তিনটি ক্যাটাগরিতে ৩ হাজার ১৮০টি সমিতিকে মোট ৮ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা, ঘূর্ণায়মান অনুদান হিসেবে ৪০ জেলার ৭০টি সমিতিকে ৩৫ লাখ টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন অনুদান হিসেবে ২১ জেলার ৬৯টি সমিতিকে ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মধ্যে অনুদান বিতরণ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজ এলিজা জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শার্মিন জামান।
এ সময় সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুবসহ মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/জেআ