শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিষেধাজ্ঞার চাপে স্থবির বেনাপোলের রপ্তানি বাণিজ্য, সংকটে শ্রমিক-কর্মচারীরা

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সরকার পরিবর্তনের প্রায় দুই বছর পার হলেও বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত বহাল রয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব বিধিনিষেধের কারণে বন্দরটি দিয়ে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দেশের অর্থনীতি। বেনাপোল স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ টনে। আগের অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ টন।

রপ্তানি কমে যাওয়ায় কয়েকটি সিঅ্যান্ডএফ (কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরি হারিয়েছেন অনেক কর্মচারী। এর প্রভাব পড়েছে পরিবহন, গুদাম, হ্যান্ডলিং, শ্রমিক এবং বন্দরনির্ভর ব্যবসার ওপর।

বেনাপোল বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ১৩ কার্যদিবসে ভারত থেকে ৩ হাজার ৩৮টি ট্রাক বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৭৫৩টি ট্রাক পণ্য। এর আগে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ভারত থেকে ৪৫০-৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ২৫০-৩০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হতো। বর্তমানে আমদানি কমে দৈনিক ২০০-৩০০ ট্রাকে এবং রপ্তানি নেমে এসেছে ১০০ ট্রাকেরও নিচে।

বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ টন পণ্য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ টনে, অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি কমে ৭৫ হাজার ২৩২ টন। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ আরও কমে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ টনে নেমে এসেছে।

বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি হওয়া প্রধান পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, টিস্যু, মেলামাইন ও মাছ। তবে দুই দেশের আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে এসব পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ও ভারতের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার ফলে বেনাপোল স্থলবন্দরে বড় ধরনের বাণিজ্য সংকট তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এর ফলে বেনাপোলের কয়েকশ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, তাদের কর্মচারী এবং বন্দরে কর্মরত এক হাজারের বেশি শ্রমিক সংকটে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, স্থলপথে যেসব পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করা হোক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল থেকে ভারত বাংলাদেশের পণ্য তৃতীয় দেশে পাঠাতে তাদের আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার দেশীয় শিল্প সুরক্ষার স্বার্থে স্থলপথে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ করে।

এরপর ১৭ মে ভারত স্থলপথে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক, তুলা, সুতির বর্জ্য, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাবপত্র ও ফল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরে ২৬ জুন পাট ও পাটজাত পণ্য স্থলপথে প্রবেশও বন্ধ করা হয়। সর্বশেষ ১১ আগস্ট পাট ও বস্ত্রজাত আরও চার ধরনের পণ্য স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ভারত এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেনি। ফলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, ভারত বাধা দিলে বিকল্প বাজার খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন

সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় শক্তি: অর্থমন্ত্রী

বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান ট্রানজিট সুবিধা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল কমে গেছে। ফলে বাণিজ্যের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও প্রভাব পড়ছে। তিনি জানান, দুই দেশের আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। রপ্তানি বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

বেনাপোল বন্দর, রপ্তানি বাণিজ্য

শেয়ার করুন: