শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সহায়তায় অস্ট্রেলিয়ার ২ কোটি ৫২ লাখ ডলার অনুদান

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৩ আগস্ট ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-কে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে এ অনুদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ইউএনএইচসিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২০২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া এ অর্থায়ন হবে নমনীয় ও বহুবর্ষী। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

সংস্থাটি জানায়, বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার অর্থায়ন যখন অনিশ্চয়তা ও চাপের মুখে রয়েছে, তখন অস্ট্রেলিয়ার এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ অর্থ দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, আঞ্চলিক মানবিক সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে দেশটি সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চান। তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া এটি সম্ভব নয়।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নতুন নতুন মানবিক সংকটের কারণে বৈশ্বিক মনোযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলে যায়নি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে চান, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। মিয়ানমারে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তাসহ অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন এ অর্থায়ন নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন, যাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছেন।

আরও পড়ুন

কয়রায় বন বিভাগের অভিযানে ৭০ কেজি হরিণের মাংসসহ নৌকা জব্দ

দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এসব শরণার্থীর জীবনযাত্রা অর্থায়ন সংকটের কারণে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ প্রচেষ্টায় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ হয়েছেন বা প্রাণ হারিয়েছেন।

সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। তাদের অনেকেই এখনো পর্যাপ্ত আশ্রয়, নিরাপদ রান্নার জ্বালানি ও অন্যান্য মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত। তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোও জরুরি বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। এসব উদ্যোগ রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে সহায়তা করবে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

রোহিঙ্গা সহায়তা, অনুদান

শেয়ার করুন: