দক্ষিণ সুদান ও আবেইয়ে মিশন পরিদর্শন শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

দক্ষিণ সুদান ও আবেইয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের কার্যক্রম এবং মিশনগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান দক্ষিণ সুদানে মোতায়েনরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানি, পদাতিক ব্যাটালিয়ন ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট এবং আবেইয়ে মোতায়েনরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক ব্যাটালিয়ন পরিদর্শন করেন।
উভয় মিশন এলাকায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন সেনাপ্রধান। পাশাপাশি তিনি শান্তিরক্ষীদের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং মিশন এলাকায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এ ছাড়া, ইউএনএমআইএসএস ও ইউএনআইএসএফএ মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি স্টাফ অফিসার, অবজারভার ও কন্টিনজেন্ট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সেনাবাহিনী প্রধান। এ সময় তিনি তাঁদের দায়িত্ব ও কার্যক্রমের পাশাপাশি মিশনগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন।
সফরের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান ইউএনএমআইএসএস-এর ফোর্স কমান্ডার মেজর জেনারেল জুনহুই উ এবং ইউএনআইএসএফএ-এর ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল গণেশ কুমার শ্রেষ্ঠার সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।
এ ছাড়া, আবেইয়ে মিশন লিডারশিপ টিম এবং সুদান ও দক্ষিণ সুদানের ন্যাশনাল মনিটরদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। এসব সাক্ষাতে মিশনের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আভিযানিক চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
আইএসপিআর জানায়, সফরের পরবর্তী পর্যায়ে সেনাবাহিনী প্রধান দক্ষিণ সুদানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চোল থন বালোক এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল সান্তিনো ডেং ওয়োলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় দক্ষিণ সুদান প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী প্রধানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
সেনাবাহিনী প্রধানের এ সফর বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণেও এ সফর সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে আইএসপিআর।
ভোরের আকাশ/সু.পা