বিশ্ব ইজতেমায় বিশৃঙ্খলা নয়, সমঝোতা চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের জন্য তাবলীগ জামাতের উভয় পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে ইজতেমা আয়োজন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের সাদপন্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ব ইজতেমার সময়সূচি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাদপন্থী অংশের মুরুব্বিদের সঙ্গে বৈঠকে ইজতেমার আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। সবার মতামত বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
ইজতেমার মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষই টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে জুবায়েরপন্থী ও সাদপন্থীদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যেখানে সাদপন্থীদের টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা না করার বিষয়টি উল্লেখ ছিল।
তবে সাম্প্রতিক বৈঠকে সাদপন্থী প্রতিনিধিরা ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি যৌক্তিক সময়ের ব্যবধানে টঙ্গী ময়দানে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সরকার গুরুত্বসহকারে বিষয়টি বিবেচনা করছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতামত নিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে আগমনের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগের সময়ের তুলনায় দেশের সামগ্রিক অপরাধ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া কেন্দ্রভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার কমেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী সম্প্রতি রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার, ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ও মনিটরিং ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা বা দায়িত্বে গাফিলতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও টেকসই করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাবলীগ জামাতের সাদপন্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সার্বিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তাবলীগ জামাতের জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ভোরের আকাশ/জেআ