শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকায় সবুজ বিপ্লব

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য, তাপমাত্রা সহনীয় এবং পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপ দিতে সরকারের সবুজায়ন কর্মসূচি দৃশ্যমান ফল দিতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নেতৃত্বে নগরজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলছে। সড়ক বিভাজক, ফুটপাত, খাল-লেকের পাড় এবং খালি জায়গাজুড়ে লাগানো হচ্ছে দেশীয় ফলদ, বনজ, ফুল ও ঔষধি গাছ।

মাত্র কয়েক বছর আগেও রাজধানীর বহু এলাকায় কংক্রিট আর ধুলাবালি ছাড়া চোখে পড়ত না তেমন কোনো সবুজ। এখন প্রগতি সরণি, গুলশান, বনানী, মহাখালী, আগারগাঁও, উত্তরা, মিরপুরসহ উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকায় সারি সারি কাঠবাদাম, ছাতিম, বকুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু ও নানা প্রজাতির গাছ নগরের চিত্র বদলে দিয়েছে। বড় হয়ে ওঠা গাছগুলো এখন পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে, ফিরিয়ে আনছে পাখি, মৌমাছি ও প্রজাপতি।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, গত তিন বছরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় চার লাখ ৩১ হাজার ৭৭৩টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফলদ, বনজ, ফুল, ঔষধি, কাঠজাতীয় ও শোভাবর্ধনকারী গাছ। চলতি বছর আরও ৫৫ হাজার গাছ রোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর কর্মপরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্প্রতি উত্তরা দিয়াবাড়ী লেকপাড়ে দেশের সর্ববৃহৎ মিয়াওয়াকি পদ্ধতির নগর বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে। প্রায় ২ দশমিক ৬০ একর এলাকায় ধাপে ধাপে প্রায় ৩৯ হাজার ৪০০টি গাছ রোপণ করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ২৫০ প্রজাতির দেশীয় ফলদ, ফুল, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ স্থান পাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রগতি সরণি, তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোড, মহাখালী, গুলশান, বনানী, উত্তরা ও মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে বড় হয়ে ওঠা কাঠবাদাম ও ছাতিম গাছ এখন পথচারীদের স্বস্তির ছায়া দিচ্ছে। অনেক শ্রমজীবী মানুষ দুপুরের তপ্ত রোদে এসব গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, গাছগুলো শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, গরমের তীব্রতাও কিছুটা কমাতে সহায়তা করছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঢাকায় তাপমাত্রা ও তাপদ্বীপ (হিট আইল্যান্ড) প্রভাব বাড়ছে। এ অবস্থায় পরিকল্পিত নগর বনায়ন বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নগরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীকে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শুধু গাছ লাগানোই নয়, প্রতিটি গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করাও আমাদের অগ্রাধিকার।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ঢাকা গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ ছায়া পাবে, শিশুরা নির্মল পরিবেশে বড় হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি স্বাস্থ্যকর নগর পাবে। নগরের প্রতিটি সম্ভাব্য স্থানে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো হবে। নাগরিকদেরও এ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হতে হবে। সবাই একটি করে গাছ লাগিয়ে তার যত্ন নিলে রাজধানীর পরিবেশ বদলে যাবে।”

আরও পড়ুন

বারির উন্নত পানিকচুর জাত নিয়ে কৃষকদের মাঠ দিবস

ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের কর্মকর্তারা জানান, সড়ক বিভাজক, ফুটপাত, খাল ও লেকপাড়ের পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত থাকবে। নগর বনায়নের মাধ্যমে বায়ুমান উন্নয়ন, কার্বন শোষণ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, চলমান এ উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কংক্রিটের নগরী ঢাকা ধীরে ধীরে একটি সবুজ, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব মহানগরীতে রূপ নেবে।

ভোরের আকাশ/এনএস

ঢাকায় সবুজ বিপ্লব

শেয়ার করুন: