শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১৬ হাজার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঝরল ১৫ হাজার ৭১২ প্রাণ

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৮ আগস্ট ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে গত সাড়ে ছয় বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩ হাজার ৫৪৮টি দুর্ঘটনা বা ২২ দশমিক ০৮ শতাংশ ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে। ৫ হাজার ৪৯৭টি বা ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ঘটেছে ৬ হাজার ৩১৪টি বা ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা। অন্যান্য কারণে ঘটেছে ৭০৬টি বা ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ৫ হাজার ৮৩১টি দুর্ঘটনায়, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।

পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে ঘটেছে ৬ হাজার ৪৮১টি বা ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনা। বাসের কারণে ২ হাজার ১৬৪টি, থ্রি-হুইলারের কারণে ৭৩২টি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের কারণে ৪৩৮টি এবং পথচারীর কারণে ২৯৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া বাইসাইকেল ও রিকশার কারণে ঘটেছে ১২৩টি দুর্ঘটনা।

সড়কের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এসব সড়কে ৬ হাজার ৬৮৯টি বা ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে ৪ হাজার ৭৭৩টি বা ২৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি বা ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি বা ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ দুর্ঘটনা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের প্রায় ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর বড় একটি অংশ কিশোর ও তরুণরা চালান। তাদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বাড়ছে।

মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনাও অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে উৎসাহিত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, উন্নত ও সহজলভ্য গণপরিবহনের অভাব এবং তীব্র যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

প্রাণহানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করাকেও চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার করলে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, রাজনীতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, সচেতনতামূলক কর্মসূচির অভাব, ত্রুটিপূর্ণ ও দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নজরদারির ঘাটতি, সহজ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহনের অভাব এবং অসহনীয় যানজট।

আট দফা সুপারিশ

আরও পড়ুন

বিশ্বকাপ চলাকালে মেসিকে দেওয়া হয়েছিল প্রাণনাশের হুমকি

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে আট দফা সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সুপারিশগুলো হলো মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্পন্ন হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো, বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারণা পরিচালনা, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনা পরিবর্তন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ-সাশ্রয়ী যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালু করা।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। তরুণদের লক্ষ্য করে কার্যকর সচেতনতা কর্মসূচি, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সহজলভ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

ভোরের আকাশ/জেআ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনমোটরসাইকেল দুর্ঘটনাসড়ক দুর্ঘটনা

শেয়ার করুন: