ফিফার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে রেফারির পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে নোয়াখালীর এক যুবক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে বিষয়টি স্থানীয় থানার আইনগত এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় অভিযোগ গ্রহণ করেনি পুলিশ।
বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচে রেফারিং নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নোয়াখালীর এক যুবক ফিফার সভাপতি ও ম্যাচের রেফারির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় হাজির হয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে নোয়াখালী সদর উপজেলার মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. রাকিব (২২) সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ জমা দিতে যান। তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংক্রান্ত বিষয় স্থানীয় থানার আইনগত এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করেনি।
অভিযোগে রাকিব দাবি করেন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে। তার ভাষায়, মিশরের সঙ্গে অবিচার হয়েছে এবং এর বিচার হওয়া উচিত।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ম্যাচের ১৪তম মিনিটে মিশরের গোলের পর রেফারি আর্জেন্টিনাকে অন্যায্য পেনাল্টি দেন এবং পরে মিশরের আরেকটি বৈধ গোল বাতিল করেন। এছাড়া ম্যাচের শেষ দিকে মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হলুদ কার্ড ও কোচকে লাল কার্ড দেখিয়ে দলটির ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাকিব আরও দাবি করেন, রেফারিংয়ের কারণে তিনি এবং বিশ্বজুড়ে মিশরের কোটি কোটি সমর্থক মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ জন্য ফিফার কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ বা ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় থানার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। বিষয়টি অভিযোগকারীকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে মো. রাকিব জানান, পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ অন্যান্য কর্মসূচিও পালন করবেন বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে ফুটবলের প্রতি সমর্থকের আবেগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ঘটনাটিকে ব্যতিক্রমী ও হাস্যরসাত্মক বলে মন্তব্য করছেন।
ভোরের আকাশ/এনএ