স্বামীর মরদেহ দেখার বিষয়ে ইসলামের বিধান কী?

স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর জন্য স্বামীর মুখ দেখা কিংবা গোসল ও দাফনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা ধরনের প্রশ্ন ও ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে অনেকে মনে করেন, মৃত্যুর পর দাম্পত্য সম্পর্ক তৎক্ষণাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং স্ত্রী তার মৃত স্বামীকে দেখতে পারবেন না
তবে ইসলামি শরিয়তের সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
ইসলামি শরিয়তের বিধান ও মাসআলা
পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বিশুদ্ধ ব্যাখ্যার আলোকে ফকিহ ও আলেমগণ এ বিষয়ে স্পষ্ট অভিমত দিয়েছেন:
মুখ দেখা ও স্পর্শ করা: স্বামী মারা যাওয়ার পর স্ত্রী তার স্বামীর চেহারা দেখতে পারবেন, কাছে বসতে পারবেন এবং স্পর্শ করতে পারবেন। এতে ইসলামি শরিয়তে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই।
কান্নাকাটি ও সমবেদনা: মৃত স্বামীকে দেখে স্ত্রী স্বাভাবিকভাবে শোক প্রকাশ ও কান্নাকাটি করতে পারবেন। তবে ইসলামে উচ্চস্বরে বিলাপ করা, কাপড় ছেঁড়া বা মুখ চাপড়ানোর মতো অসংযত আচরণ বারণ করা হয়েছে।
ইদ্দত পালনের সূচনা: স্বামীর মৃত্যুর সাথে সাথেই স্ত্রীর ইদ্দত কাল (৪ মাস ১০ দিন) শুরু হয়ে যায়। তবে ইদ্দত চলাকালীন নিজ ঘরে অবস্থানকালেই স্ত্রী স্বামীর শেষবিদায়ের সব প্রক্রিয়ায় শরিক হতে ও চেহারা দেখতে পারেন।
গোসল দেওয়ার বিষয়: জমহুর (অধিকাংশ) আলেমদের মতে, স্ত্রী তার মৃত স্বামীকে গোসলও করাতে পারেন। কারণ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছিলেন, "আমরা যদি আগে জানতাম যা পরে জেনেছি, তবে রসূলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁর স্ত্রীগণ ছাড়া কেউ গোসল দিত না।" (আবু দাউদ)।
ভুল ধারণার অবসান
আমাদের সমাজে কিছু লোক বিশ্বাস করেন যে, মৃত্যুর সাথে সাথেই স্ত্রী স্বামীর জন্য সম্পূর্ণ ‘নামাহরাম’ হয়ে যান এবং চেহারা দেখা হারাম হয়ে পড়ে। এটি একটি কুসংস্কার ও অজ্ঞতাপ্রসূত ধারণা। শরিয়ত অনুযায়ী স্ত্রীর জন্য স্বামীর মুখ দেখা এবং শেষশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা পুরোপুরি বৈধ।
উপসংহার স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর শেষবারের মতো মুখ দেখা বা তার জন্য দোয়া করার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়তে কোনো বাধা নেই। মনগড়া কুসংস্কার এড়িয়ে সহীহ ইসলামি বিধান মেনে চলাই প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।