কিয়ামতের দিনে যে সাত শ্রেণীর মানুষ বঞ্চিত হবেন

কেয়ামতের দিন বা মহাবিচারের ময়দানে মহান আল্লাহর রহমত ও দয়া ছাড়া মানুষের নাজাত পাওয়ার কোনো উপায় থাকবে না। সেই ভয়াবহ দিনে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করাই হবে প্রতিটি মুমিনের প্রধান লক্ষ্য। অথচ হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ ﷺ এমন কিছু বিশেষ শ্রেণীর মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন, যাদের প্রতি কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সুসংবাদের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের গুনাহ থেকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
বিভিন্ন সহীহ হাদিস ও তাফসীরের আলোকে পরকালে মহান আল্লাহর অনুগ্রহবঞ্চিত সেই সাত শ্রেণীর অপরাধীর বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বৃদ্ধ ব্যভিচারী (অশীতিপর পাপাচারী)
বার্ধক্যে পৌঁছানোর পর মানুষের শারীরিক কামভাব ও প্রবৃত্তি প্রাকৃতিকভাবেই শিথিল হয়ে যায়। এতৎসত্ত্বেও কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তি যদি ব্যভিচার বা অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়, তবে তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট পাপাচার। কারণ এই বয়সে তার তো তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার কথা ছিল।
২. মিথ্যাবাদী শাসক বা রাষ্ট্রপ্রধান
যে শাসক, দায়িত্বশীল বা নেতা জনগণের কাছে প্রতিনিয়ত মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং অসত্যের আশ্রয় নেয়। কারণ ক্ষমতার দাপট থাকায় তার মিথ্যা বলার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না, কেবল প্রবৃত্তি ও অহংকারের বশবর্তী হয়ে সে তা করেছে।
৩. অহংকারী দরিদ্র বা অভাবী
অহংকার করা আল্লাহর চাদর টেনে নেওয়ার শামিল। ধনী ব্যক্তির ধনসম্পদের কারণে অহংকার জাগা অন্যায় হলেও কিছুটা বোধগম্য, কিন্তু যে ব্যক্তি নিজে অভাবী বা দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও অহংকার করে, তা অত্যন্ত ধৃষ্টতা। সে আল্লাহর তীব্র অসন্তোষের পাত্র।
(উপরোক্ত তিনটি শ্রেণীর বিষয়ে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত সহীহ মুসলিমের ৬৭ নম্বর হাদিসে সরাসরি রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন।)
৪. অহংকারবশত টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী
যে ব্যক্তি অহংকার বা লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে প্যান্ট, পায়জামা, লুঙ্গি বা জুব্বা টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করে।
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তিন ব্যক্তির সাথে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না... তাদের একজন হলো সে, যে অহংকারবশত টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে রাখে।” (সহীহ মুসলিম)
৫. খোটা প্রদানকারী দানশীল
যে ব্যক্তি কাউকে কোনো দান-সদকাহ, সাহায্য বা উপকার করার পর তা নিয়ে বারবার খোঁটা দেয় বা অপমান করে। খোঁটা দেওয়ার মাধ্যমে দানের সওয়াব তো নষ্ট হয়ই, উপরন্তু পরকালে সে আল্লাহর রহমত থেকেও বঞ্চিত হবে।
৬. মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রয়কারী
ব্যবসা-বাণিজ্যে অধিক মুনাফা অর্জন বা ক্রেতাকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে যে ব্যবসায়ী আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ বা কসম খেয়ে তার পণ্যের গুণগান গায় বা বিক্রি করে।
(উপরোক্ত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর শ্রেণীর বিষয়টি সহীহ মুসলিমের ১০৬ নম্বর হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।)
৭. পিতৃপরিচয় অস্বীকারকারী বা জন্মদাতা পিতা ব্যতীত অন্যকে পিতা দাবি করে সুবিধাভোগী
যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজের জন্মদাতা পিতার পরিচয় গোপন করে অন্য কাউকে পিতা হিসেবে দাবি করে অথবা যে মনিব তাকে মুক্ত করেছে তার অনুগ্রহ অস্বীকার করে অন্য কারও দিকে নিজেকে সম্পর্কিত করে।
কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর এক নজর করুণার দৃষ্টিই হবে মুমিনের চূড়ান্ত সফলতা। আর ওপরের উল্লেখিত কাজগুলো মানুষকে সেই মহান অনুগ্রহ থেকে চিরতরে বঞ্চিত করে দেয়। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সজাগ হওয়া, অতীতের ভুলের জন্য খাঁটি তাওবা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে জীবন পরিচালনা করা।