শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কুরআনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?

শরিফ আল আদনান

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঘরে কুরআন আছে, তাকেও আছে; কিন্তু জীবনে কতটুকু আছে? প্রশ্নটি যত সহজ, উত্তরটি ততটাই কঠিন। মুসলিম পরিচয়ের গৌরব আমরা ধারণ করি, কুরআন তেলাওয়াত করি, ঘরে যত্ন করে সংরক্ষণ করি কিন্তু কুরআন কি আমাদের চিন্তা, চরিত্র, পরিবার ও সমাজকে পরিচালিত করছে? নাকি তা কেবল পবিত্র একটি গ্রন্থ হিসেবেই আমাদের জীবনে স্থান পেয়েছে?

আল-কুরআন কোনো ইতিহাসের বই নয়, কেবল ইবাদতের সময় তিলাওয়াতের জন্য নাজিল হওয়া কিতাবও নয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন: নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক। (সূরা আল-ইসরা)

অর্থাৎ মানুষের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনই সর্বোত্তম পথনির্দেশক।

কুরআনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রথম ধাপ: ঈমান

কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু হয় বিশ্বাস থেকে। একজন মুমিন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন এটি আল্লাহর বাণী: এতে কোনো অসত্য নেই, কোনো বৈপরীত্য নেই এবং এর প্রতিটি নির্দেশ মানুষের কল্যাণের জন্য।

দ্বিতীয় ধাপ: নিয়মিত তেলাওয়াত

কুরআন তেলাওয়াত শুধু সওয়াব অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি অন্তরের প্রশান্তি ও ঈমানকে সতেজ রাখার অন্যতম উপায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। (সহিহ আল-বুখারি, হাদিস)

প্রতিদিন অল্প হলেও কুরআন পড়ার অভ্যাস একজন মুসলিমের আত্মিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

তৃতীয় ধাপ: অর্থ বোঝা ও চিন্তা করা

কুরআন বারবার মানুষকে চিন্তা করতে আহ্বান জানায়। তারা কি কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? (সূরা আন-নিসা)

শুধু উচ্চারণ শুদ্ধ করাই যথেষ্ট নয়; কুরআনের বার্তা বুঝে তা হৃদয়ে ধারণ করাই প্রকৃত উদ্দেশ্য। যে কুরআন বুঝে, তার সিদ্ধান্ত বদলে যায়; যে কুরআন উপলব্ধি করে, তার জীবনও বদলে যায়।

 চতুর্থ ধাপ: আমলে রূপ দেওয়া

কুরআনের সবচেয়ে বড় দাবি হলো আমল। সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, আমানতদারিতা, ধৈর্য, ক্ষমা, দয়া, পরোপকার এসব কেবল পড়ার বিষয় নয়; জীবনে বাস্তবায়নের বিষয়।

হজরত আয়িশা (রা.)-কে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তাঁর চরিত্রই ছিল কুরআন। (সহিহ মুসলিম)

অর্থাৎ কুরআনের বাস্তব রূপ ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। একজন মুসলিমেরও লক্ষ্য হওয়া উচিত তার চরিত্রে যেন কুরআনের শিক্ষা ফুটে ওঠে।

আমাদের বাস্তবতা

আজ অনেকেই কুরআন তিলাওয়াত করেন, কিন্তু ব্যবসায় প্রতারণা করেন; নামাজ পড়েন, কিন্তু অন্যের অধিকার নষ্ট করেন; কুরআন খতম দেন, কিন্তু পরিবারে কুরআনের শিক্ষা প্রতিফলিত হয় না। এ বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় কুরআনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখনো অসম্পূর্ণ।

ডিজিটাল যুগে আমরা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলের পর্দায় কাটাই। অথচ কুরআনের জন্য কয়েক মিনিট সময় বের করতেও অনেক সময় কষ্ট হয়। যদি প্রতিদিন সামান্য সময়ও তিলাওয়াত, অর্থ অধ্যয়ন এবং একটি আয়াতের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের জন্য ব্যয় করি, তাহলে ব্যক্তি থেকে সমাজ সবখানেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক মানে শুধু তিলাওয়াত নয়; বিশ্বাস, বোঝা, চিন্তা করা, আমল করা এবং অন্যের কাছে এর আলো পৌঁছে দেওয়া। যে ব্যক্তি কুরআনকে জীবনের পথপ্রদর্শক বানায়, কুরআনও তাকে দুনিয়ার বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে এবং আখিরাতের সফলতার পথ দেখায়।

আসুন, কুরআনকে শুধু তাকের অলংকার নয়, হৃদয়ের নূর, চরিত্রের ভিত্তি এবং জীবনের সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করি। কারণ কুরআনের সঙ্গে যত গভীর হবে আমাদের সম্পর্ক, ততই দৃঢ় হবে আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক।

আমাদের প্রত্যেকের অন্তরে একটি স্বপ্ন লালন করা উচিত যদি নিজে হাফেজে কুরআন হতে না পারি, তাহলে অন্তত আমাদের সন্তান যেন কুরআনের হাফেজ হয়। যে ঘরে একজন হাফেজ বেড়ে ওঠে, সে ঘরে কুরআনের আলো, তিলাওয়াতের সুর এবং দ্বীনি পরিবেশ আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত নিজের জীবনে কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মকে কুরআনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা।

আরও পড়ুন

মার্কিন সহযোগী দেশগুলোকেও কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

একজন পিতা-মাতার জন্য এটি শুধু পারিবারিক গর্ব নয়; বরং একটি চলমান সদকায়ে জারিয়ারও মাধ্যম হতে পারে। কুরআনের প্রতি ভালোবাসা তখনই পরিপূর্ণতা পায়, যখন আমরা নিজেরাও এর আলোয় চলি এবং আমাদের সন্তানদেরও সেই আলোর পথের যাত্রী হিসেবে গড়ে তুলি।

লেখক: শিক্ষক, মাদিনাতুল উলুম মাদরাসা বারাদি বাজার, মেহেরপুর

ভোরের আকাশ/এনএ

কুরআনের নির্দেশনাআল হাদিস

শেয়ার করুন: