বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পেতে ৩ আমল নিয়মিত করুন

মানবজীবনে বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট এবং পরীক্ষা আসা অত্যন্ত স্বাভাবিক। রোগশোকাচ্ছন্ন পরিবেশ, হঠাৎ আর্থিক ক্ষতি বা যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিপদ থেকে উত্তরণের জন্য বাহ্যিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি আত্মিক ও আমলগত আমল অত্যন্ত কার্যকরী। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে কঠিন সংকট থেকে নিষ্কৃতি পেতে ৩টি আমল সবচেয়ে বেশি কার্যকর হিসেবে বিবেচিত।
১. বেশি বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা
পাপের দরুন মানুষ প্রায়শই নানা বিপদে পতিত হয়, আর ইস্তিগফার হলো যেকোনো বালা-মুসিবত দূর করার প্রধান হাতিয়ার।
কোরআনের দিকনির্দেশনা: সুরা নুহে বলা হয়েছে, ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আকাশ থেকে রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত দেন।
হাদিসের আশ্বাস: রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার আঁকড়ে ধরে, আল্লাহ তাকে সব সংকট থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন, তার সব দুশ্চিন্তা দূর করে দেন এবং তাকে ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন।
২. দোয়ায় ইউনুস ও বিশেষ জিকির পাঠ করা
বিপদের চরম মুহূর্তে আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে সাহায্য চাওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো হযরত ইউনুস (আ.)-এর সেই ঐতিহাসিক দোয়া।
‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জ্বালিমীন।’ (অর্থ: তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তুমি পরম পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত।)
মাছের পেটে চরম বিপদাক্রান্ত অবস্থায় হযরত ইউনুস (আ.) এই দোয়া পড়ে মুক্তি পেয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি কোনো বিপদে পড়ে এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তা কবুল করেন।
৩. যথাসম্ভব বেশি বেশি সদকা (দান-ছদকা) দেওয়া
দান-ছদকা কেবল পরকালের পুঞ্জীভূত সওয়াব নয়, এটি দুনিয়াতেও বিপদের ঢাল হিসেবে কাজ করে।
বালা-মুসিবত দূর করে: হাদিস শরিফে এসেছে, ‘সদকা রবের রাগ প্রশমিত করে এবং অপমৃত্যু প্রতিরোধ করে।’
আমলের নিয়ম: বিপদ বা সংকট চলাকালীন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কোনো অভাবীকে খাবার দেওয়া, অর্থ সাহায্য করা বায যেকোনো জনকল্যাণমূলক কাজে গোপনীয়ভাবে সদকা করা উত্তম। এতে আল্লাহর রহমত ত্বরান্বিত হয় এবং কঠিন বিপদ কেটে যায়।
বিপদের সময়ে অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং একই সাথে এই তিনটি আমল নিয়মিত চর্চা করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস ও তাওয়াক্কুল রেখে এই আমলগুলো করলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকেও শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।