কোন ৫ শ্রেণির মানুষের জন্য জাহান্নামের সতর্কবার্তা?

দৈনন্দিন জীবনের নানা কর্মকাণ্ডে মানুষ না জেনেই অনেক সময় এমন কিছু গুনাহ ও পাপাচারের সাথে জড়িয়ে পড়ে, যা পরকালে কঠিন শাস্তির কারণ হতে পারে। ইসলামী শরিয়ত ও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদিসের আলোকে সুস্পষ্টভাবে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষ জাহান্নামের শাস্তির মুখোমুখি হবে। আলেম ও ইসলামিক স্কলারদের মতে, আখিরাতের কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচতে এই বৈশিষ্ট্যগুলো পরিহার করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যক।
ইসলামি গ্রন্থ ও বিভিন্ন বিশুদ্ধ হাদিস পর্যালোচনায় উঠে আসা সেই ৫টি প্রধান শ্রেণি নিম্নে তুলে ধরা হলো:
১. অহংকারী ও দম্ভকারী: পবিত্র হাদিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যার অন্তরে অণুপরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। নিজের রূপ, ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা জ্ঞানের কারণে অন্যদের তুচ্ছজ্ঞান করা এবং সত্যকে অস্বীকার করার মানসিকতা মানুষকে সরাসরি জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।
২. জালেম ও অত্যাচারী শাসক/দায়িত্বশীল: যারা নিজের ক্ষমতা বা পদের অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম-অত্যাচার চালায়, তারা পরকালে আল্লাহর কঠিন ক্রোধের শিকার হবে। বিচার দিবসে জালেমদের সব নেক আমল ক্ষতিগ্রস্তদের দিয়ে দেওয়া হবে এবং তারা দেউলিয়া হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
৩. অসভ্য, অশ্লীলভাষী ও কঠোর হৃদয়ের মানুষ: রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করেছেন যে, কটুভাষী, কড়া মেজাজের এবং অন্যের গীবত বা সমালোচনা করে বেড়ানো মানুষ আল্লাহর কাছে অত্যন্ত অপ্রিয়। সমাজে বিশৃঙ্খলা ও মানসিক কষ্ট সৃষ্টিকারী এসব ব্যক্তি পরকালে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে।
৪. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছেদকারী: বিনা কারণে মা-বাবা, ভাই-বোন বা নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ইসলামে মারাত্মক কবিরা গুনাহ। আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায় অবহেলাকারী ও স্বজনদের অধিকার হরণকারীদের জন্য পরকালে জান্নাতের দরজা বন্ধ থাকার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।
৫. আমানতের খিয়ানতকারী ও প্রতারক: ব্যবসায়িক লেনদেনে প্রতারণা করা, অন্যের হক মেরে খাওয়া এবং গচ্ছিত আমানতের খিয়ানত করা মুনাফিকের লক্ষণ। এই জাতীয় প্রতারক ও অসৎ উপায়ে সম্পদ উপার্জনকারীরা আখিরাতে কঠোর শাস্তির যোগ্য হবে।
ইসলামিক চিন্তাবিদদের মতে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো মূলত মানুষের অন্তরের ব্যাধি ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন। সময় থাকতে খাঁটি তওবা করা, অন্যের হক আদায় করা এবং উত্তম আখলাক বা চরিত্রের অধিকারী হওয়ার মাধ্যমেই কেবল পরকালের চিরন্তন শাস্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ভোরের আকাশ/জেআ