শিরোনাম
ওয়াসার ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীমাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ডপেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণে জনগণের পুলিশ গড়তে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীজাতীয় নির্বাচনের মতোই এ নির্বাচনকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: সিইসিহানিফসহ ৪ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় আজইইউ’র ট্যালেন্ট পার্টনারশিপে স্পেনের অংশগ্রহণ চাইল বাংলাদেশফের বাড়লো স্বর্ণের দামপ্রাথমিকের বই ছাপা ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৮ শতাংশ, শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য নভেম্বরেওয়াসার ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীমাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ডপেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণে জনগণের পুলিশ গড়তে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীজাতীয় নির্বাচনের মতোই এ নির্বাচনকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: সিইসিহানিফসহ ৪ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় আজইইউ’র ট্যালেন্ট পার্টনারশিপে স্পেনের অংশগ্রহণ চাইল বাংলাদেশফের বাড়লো স্বর্ণের দামপ্রাথমিকের বই ছাপা ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৮ শতাংশ, শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য নভেম্বরে

স্ত্রীর বোনের সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে ইসলামী বিধান

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে পারিবারিক ও বৈবাহিক জীবনের সুরক্ষায় কাদের বিয়ে করা বৈধ এবং কাদের বিয়ে করা চিরতরে বা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পবিত্র ও আইনি সীমারেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘স্ত্রীর বোন’ বা শ্যালিকাকে বিয়ে করার বিধান।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী স্ত্রীর জীবদ্দশায় বা বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখে তার বোনকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর এবং স্পষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। এ বিষয়ে শরিয়তের মূল আইনি সিদ্ধান্ত ও এর পেছনের কারণগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

মূল বিধান: সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ 

ইসলামী ফিকহ এবং শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, স্ত্রীর আপন বোন (হোক সে বড় বা ছোট) হলেন একজন পুরুষের জন্য সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ নারী । এর অর্থ হলো:

একত্রে বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম: একজন পুরুষ কখনোই একই সময়ে দুই বোনকে নিজের স্ত্রী হিসেবে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ রাখতে পারবেন না। অর্থাৎ, প্রথম স্ত্রী বিবাহিত থাকা অবস্থায় তার আপন বোনকে বিয়ে করা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অবৈধ, বাতিল এবং কবিরা গুনাহ।

কখন বৈধ হতে পারে: যদি কোনো কারণে প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) হয়ে যায় এবং তার ইদ্দতকাল (প্রতীক্ষার সময়) শেষ হয়, অথবা যদি প্রথম স্ত্রী মৃত্যুবরণ করেন—কেবলমাত্র তখনই একজন পুরুষ তার সেই মৃত বা ডিভোর্সড স্ত্রীর বোনকে (শ্যালিকাকে) বিয়ে করতে পারবেন। এর আগে কোনোভাবেই নয়।

পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা ও আইনি ভিত্তি

এই বিধানটি সরাসরি মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে অবতীর্ণ করেছেন। সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে, যেখানে ইসলামে চিরতরে নিষিদ্ধ নারীদের (যেমন: মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা ইত্যাদি) তালিকা দেওয়া হয়েছে, ঠিক সেই আয়াতের শেষ অংশে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ইরশাদ করেছেন:

“...এবং দুই বোনকে একত্রে (একই শয্যায় বা বৈবাহিক বন্ধনে) যুক্ত করা তোমাদের জন্য হারাম করা হলো; তবে অতীতে যা হয়ে গেছে (ইসলামপূর্ব যুগে) তা ভিন্ন কথা। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৩)

হাদিসের পরিবর্ধন (খালার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য)

পবিত্র কোরআনের এই দুই বোনকে একত্রে বিয়ের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ ﷺ এই বিধানটিকে আরও প্রসারিত করেছেন, যাতে পারিবারিক বন্ধন নষ্ট না হয়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: “কোনো পুরুষ যেন একই সাথে কোনো নারীকে এবং তার ফুফুকে, কিংবা কোনো নারীকে এবং তার খালাকে বিয়ে করে একত্রে না রাখে।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৫১০৯; সহীহ মুসলিম)

এই বিধিনিষেধের পেছনের হিকমত বা কারণ

ইসলামের প্রতিটি বিধানের পেছনেই মানবজাতির জন্য কল্যাণ ও গভীর হিকমত বা যুক্তি নিহিত থাকে। একই সাথে দুই বোনকে বিয়ে নিষিদ্ধ করার প্রধান কারণগুলো হলো:

১. পারিবারিক হিংসা ও শত্রুতা রোধ করা : সতীনদের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা ঈর্ষা বা প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এখন দুই বোন যদি একই পুরুষের সতীন হয়, তবে তাদের মধ্যকার পবিত্র রক্ত ও বোনের সম্পর্ক বিষাক্ত হয়ে উঠবে। বোনেরা একে অপরের শত্রু হয়ে উঠবে, যা ইসলাম কখনোই চায় না। 

২. আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা : ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। দুই বোনকে সতীন বানালে তাদের মধ্যকার পারিবারিক যোগাযোগ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যায়। 

আরও পড়ুন

আইসিসির সঙ্গে বৈঠকের পর স্বস্তি, ভারত সিরিজ নিয়েও আশাবাদী বিসিবি

৩. শ্যালিকার সাথে পর্দার বিধান : যেহেতু স্ত্রীর বোন চিরতরে নিষিদ্ধ (Permanent Mahram) নন, বরং সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ; তাই ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী শ্যালিকা বা স্ত্রীর বোনের সাথে দুলাভাইয়ের পর্দার বিধান পূর্ণাঙ্গভাবে প্রযোজ্য। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা যে শ্যালিকার সাথে পর্দা নেই, তা সম্পূর্ণ ভুল ও শরীয়ত পরিপন্থী। দুলাভাইয়ের জন্য শ্যালিকা সম্পূর্ণ ‘গায়রে মাহরাম’ (যার সাথে পর্দা করা ফরজ)।

স্ত্রীর বোনকে একত্রে বিয়ে করার এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা মূলত পারিবারিক শান্তি, বোনদের মধ্যকার চিরন্তন ভালোবাসা এবং সমাজকে বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর এক অনন্য উপহার।

ভোরের আকাশ/জেআ

ইসলামী বিধানকোরআন হাদিসইসলামী শরিয়াহ

শেয়ার করুন: