অমুসলিম দেশে মুসলমানের বসবাস নিয়ে যা বললেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী

জীবন, জীবিকা, শিক্ষা বা চিকিৎসার প্রয়োজনে অনেক মুসলমানকে অমুসলিম দেশে বসবাস করতে হয়। তবে এমন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের করণীয় কী—এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, শিক্ষা, চিকিৎসা বা ভ্রমণের মতো কারণে অস্থায়ীভাবে অমুসলিম দেশে বসবাস করলে দাওয়াতের নিয়ত থাকা আবশ্যক নয়। তবে স্থায়ীভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে ইসলামের দাওয়াত ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরার মানসিকতা থাকা উচিত।
তিনি একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) অমুসলিমদের মাঝে বসবাসের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তবে যারা ইসলামের আদর্শ ও মূল্যবোধ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নিয়ত নিয়ে সেখানে থাকেন, তাদের দায়িত্ব ভিন্ন।
আজহারী বলেন, অমুসলিম দেশে বসবাসকারী প্রত্যেক মুসলিম ইসলামের প্রতিনিধি। তাদের আচরণ, সততা, আমানতদারিতা ও লেনদেন দেখে অন্যরা ইসলামকে মূল্যায়ন করে। তাই একজন মুসলমানের উচিত সবসময় সত্যবাদী, দায়িত্বশীল ও উত্তম চরিত্রের পরিচয় দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, ইসলামকে সঠিকভাবে না জানলে তা অন্যদের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করাও সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা, শরিয়তের বিধান মেনে চলা এবং নিজের সন্তানদেরও ইসলামের শিক্ষা দেওয়া।
ভিডিও বার্তার শেষাংশে তিনি হজরত উমর (রা.)-এর একটি বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করে বলেন, "আল্লাহ তাআলা ইসলাম দিয়ে আমাদের সম্মানিত করেছেন। ইসলাম ছাড়া অন্য কোথাও সম্মান খুঁজলে আল্লাহ আমাদের অপদস্থ করবেন।" একই সঙ্গে তিনি সুরা আলে ইমরানের ৮৫ নম্বর আয়াতের আলোকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, আল্লাহর কাছে মনোনীত ধর্ম একমাত্র ইসলাম।
ভোরের আকাশ/এনএ