শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আধুনিক ফ্যাশন ট্যাটু, ইসলাম কী বলে?

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৬ জুন ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক যুগে ট্যাটু বা শরীরে স্থায়ী নকশা আঁকার প্রবণতা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফ্যাশন, ব্যক্তিগত পছন্দ কিংবা পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে অনেকেই শরীরে বিভিন্ন ধরনের ট্যাটু আঁকছেন। তবে মুসলমানদের মধ্যে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে—ইসলামের দৃষ্টিতে শরীরে ট্যাটু আঁকা কি জায়েজ?

ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতে, স্থায়ী ট্যাটু আঁকা শরিয়তসম্মত নয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। ইসলামের অধিকাংশ ফকিহ ও গবেষকের মতে, স্থায়ী ট্যাটুর মাধ্যমে শরীরের স্বাভাবিক আকৃতি পরিবর্তন করা হয়, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ।

ইসলামে ট্যাটু নিষিদ্ধ হওয়ার মূল কারণ এবং এ সংক্রান্ত ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

১. হাদিসের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা
শরীরে স্থায়ী ট্যাটু আঁকার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিসে এসেছে—
“রাসূলুল্লাহ (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন সেই নারীদের (বা পুরুষদের) যারা শরীরের চামড়া খুঁচে উল্কি বা ট্যাটু এঁকে দেয় এবং যারা নিজেদের শরীরে তা আঁকায়।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৫৯৩১)

ইসলামে যে সমস্ত কাজের জন্য ‘লানত’ বা অভিশাপের কথা উল্লেখ আছে, সেগুলোকে ‘কাবিরা গুনাহ’ বা বড় পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়।

২. আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন
ট্যাটু নিষিদ্ধ হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো, এটি মহান আল্লাহ মানুষের যে স্বাভাবিক ও সুন্দর অবয়ব বা রূপ সৃষ্টি করেছেন, তাতে বিকৃতি বা পরিবর্তন ঘটায়। পবিত্র কোরআনে শয়তানের একটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ আছে, যেখানে শয়তান বলেছিল— সে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে এবং তারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনবে (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৯)। ট্যাটু আঁকাকে আল্লাহর সৃষ্টিতে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয়।

৩. শরীরকে কষ্ট দেওয়া
স্থায়ী ট্যাটু করার সময় সূঁচ ফুটিয়ে চামড়ার নিচে রক্ত বের করে সেখানে রঙ বা কালি প্রবেশ করানো হয়। ইসলামে কোনো যৌক্তিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণ ছাড়া নিজের শরীরকে এভাবে কষ্ট দেওয়া বা ক্ষতবিক্ষত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ওজু এবং গোসলের বিধান (ট্যাটু থাকলে কি নামাজ হবে?)
ট্যাটু নিয়ে অনেকের মনেই একটি বড় প্রশ্ন থাকে যে, ট্যাটু থাকলে ওজু-গোসল বা নামাজ হবে কি না।

আরও পড়ুন

পাকা ও সুস্বাদু আম চিনবেন কীভাবে?

  • পানির স্পর্শে বাধা: আধুনিক স্থায়ী ট্যাটুগুলো চামড়ার ভেতরের স্তরে (Dermis) করা হয়। তবে যদি ট্যাটুর কালির কারণে চামড়ার ওপর এমন কোনো স্তর পড়ে যা ভেতরের অংশে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে ওজু এবং ফরয গোসল শুদ্ধ হবে না। আর ওজু-গোসল শুদ্ধ না হলে নামাজও কবুল হবে না।
  • যদি কেউ না জেনে বা অতীতে ট্যাটু করিয়ে থাকেন: কেউ যদি ইসলামের এই বিধান জানার আগে বা ইসলাম গ্রহণের আগে শরীরে ট্যাটু করিয়ে থাকেন, তবে তাঁর করণীয় হলো—

১. আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা বা ক্ষমা প্রার্থনা করা।
২. যদি স্বাস্থ্যগত কোনো ক্ষতি বা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি না করে লেজার বা অন্য কোনো চিকিৎসার মাধ্যমে ট্যাটুটি তুলে ফেলা সম্ভব হয়, তবে তা তুলে ফেলা ওয়াজিব (আবশ্যক)।
৩. কিন্তু ট্যাটু তুলতে গিয়ে যদি চামড়া মারাত্মক নষ্ট হওয়ার বা ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে, তবে তা আর তোলার প্রয়োজন নেই। সেক্ষেত্রে তওবা করলেই আল্লাহ মাফ করবেন এবং ওই অবস্থায় ওজু, গোসল ও নামাজ আদায় করলে তা ইনশাআল্লাহ কবুল হবে।

অস্থায়ী ট্যাটু বা মেহেদির ট্যাটু কি জায়েজ?
হ্যাঁ, যদি ট্যাটুটি স্থায়ী না হয়— অর্থাৎ চামড়া কেটে বা সূঁচ ফুটিয়ে রক্ত বের করে না করা হয়, তবে তা জায়েজ। যেমন:

  • মেহেদির আলপনা বা স্টিকার ট্যাটু: ব্যথাহীনভাবে চামড়ার ওপর সাময়িকভাবে যে স্টিকার বা মেহেদির নকশা করা হয়, যা কয়েকদিন পর ধুয়ে মুছে যায় এবং যার ফলে ওজু-গোসলের পানি চামড়াতে পৌঁছাতে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না, তা ইসলামে বৈধ। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন নকশাটি কোনো অশ্লীল ছবি বা অন্য কোনো ধর্মের ধর্মীয় প্রতীকের না হয়।

ভোরের আকাশ/জেআ

হাদিসট্যাটুইসলামি বিধানশরীরে ট্যাটুমেহেদি

শেয়ার করুন: