পাকা ও সুস্বাদু আম চিনবেন কীভাবে?

জ্যৈষ্ঠ মাস মানেই মধুমাস। আর মধুমাসের প্রধান আকর্ষণ হলো ফলের রাজা 'আম'। বাজারে এখন ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপালভোগ, হাড়িভাঙাসহ হরেক রকমের আমের সমারোহ। তবে আমপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—শত শত আমের ভিড় থেকে মিষ্টি, সুস্বাদু এবং কার্বাইড বা কেমিক্যালমুক্ত খাঁটি আম চিনে নেওয়া। অনেক সময় বাইরে থেকে দেখতে সুন্দর মনে হলেও কাটার পর দেখা যায় আমটি টক বা ভেতরে নষ্ট।
আম কেনার সময় ঠকে না যেতে চাইলে কিছু সহজ কৌশল জেনে রাখা জরুরি। ভালো ও গাছপাকা আম চেনার কার্যকর উপায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আমের সুঘ্রাণ পরীক্ষা করুন (সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়)
আম কেনার সময় সবার আগে সেটি নাকের কাছে নিয়ে ঘ্রাণ শুঁকে দেখুন।
- গাছপাকা আমের বৈশিষ্ট্য: প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের বোঁটার (বৃন্ত) কাছ থেকে একটি মিষ্টি, চমৎকার ও তীব্র সুবাস বের হয়। হাড়িভাঙা বা হিমসাগরের মতো আমের নিজস্ব চেনা ঘ্রাণ থাকে।
- কেমিক্যালযুক্ত আমের বৈশিষ্ট্য: আমটি যদি কার্বাইড বা অন্য কোনো রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়, তবে তার বোঁটার কাছে কোনো সুঘ্রাণ থাকবে না। উল্টো অনেক সময় ঝাঁঝালো বা ওষুধের মতো রাসায়নিক গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।
২. আমের গায়ের রঙ ও দাগ লক্ষ্য করুন
বাইরে থেকে দেখতে একদম নিখুঁত, চকচকে ও গাঢ় হলুদ আম দেখলেই লুব্ধ হবেন না।
- গাছপাকা আমের বৈশিষ্ট্য: প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের পুরো অংশ কখনোই একসাথে সমানভাবে হলুদ হয় না। এর গায়ে কিছুটা সবুজ, কিছুটা হলদে ভাব থাকবে। অনেক আমের গায়ে ছোট ছোট কালো বা কালচে দাগ থাকে, যা গাছপাকা হওয়ার লক্ষণ।
- কেমিক্যালযুক্ত আমের বৈশিষ্ট্য: রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম দেখতে কৃত্রিমভাবে উজ্জ্বল হলুদ বা লালচে দেখায়। এই আমগুলোর কোথাও কোনো সবুজ বা স্বাভাবিক দাগ থাকে না, পুরো আমটি একই রঙের দেখায়।
৩. হাত দিয়ে টিপে পরীক্ষা করুন
আমটি আলতো করে হাত দিয়ে চেপে বা টিপে এর পরিপক্বতা যাচাই করুন।
- গাছপাকা আমের বৈশিষ্ট্য: আমটি যদি প্রাকৃতিকভাবে পাকে, তবে হাত দিয়ে চাপ দিলে তা কিছুটা নরম বা নমনীয় অনুভূত হবে। তবে তা স্পঞ্জের মতো পচপচে হবে না।
- কেমিক্যালযুক্ত আমের বৈশিষ্ট্য: কার্বাইড দিয়ে পাকানো আমের ওপরের অংশ হলুদ হলেও ভেতরের আঁটি বা শাঁস কাঁচা থাকে। ফলে হাত দিয়ে চাপ দিলে আমটি বেশ শক্ত বা অসমানভাবে শক্ত লাগবে।
৪. আমের খোসা বা চামড়া দেখুন
আমের খোসার মসৃণতা দেখেও ভালো আম চেনা যায়।
- গাছপাকা আমের বৈশিষ্ট্য: প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের ত্বক বা খোসা কিছুটা কুঁচকানো বা আলগা হতে পারে, যা আমটি পুরোপুরি পেকে রসালো হওয়ার প্রমাণ।
- কেমিক্যালযুক্ত আমের বৈশিষ্ট্য: কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আমের চামড়া একদম টানটান ও মসৃণ থাকে।
- ঘরে এনে আম পরীক্ষা করার দুটি সহজ পদ্ধতি:
পানির পরীক্ষা: আম বাজার থেকে আনার পর একটি বালতিতে পানি নিয়ে তাতে ডুবিয়ে দিন। যে আমগুলো প্রাকৃতিকভাবে পাকা ও ভারী, সেগুলো পানিতে ডুবে যাবে। আর যেগুলো কেমিক্যাল দিয়ে জোর করে পাকানো হয়েছে, সেগুলো পানির ওপর ভেসে থাকবে।
- মাছি ও ফড়িং: আম ঘরের খোলা জায়গায় রাখার পর যদি দেখেন তার আশেপাশে মাছি বা ফড়িং উড়ছে বা বসছে, তবে বুঝবেন আমটি নিরাপদ। কেমিক্যালযুক্ত আমে তীব্র রাসায়নিকের কারণে মাছি সহজে বসে না।
পুষ্টিবিদের পরামর্শ:
বাজার থেকে আম কেনার পর অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা সাধারণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে আমের গায়ে যদি কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক থাকে, তা ধুয়ে যাবে এবং আমের ভেতরের গরম ভাবটাও কমে যাবে। সুস্থ থাকতে তাড়াহুড়ো না করে মৌসুমের সঠিক সময়ে প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম কিনে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ভোরের আকাশ/জেআ