নির্বিঘ্নে হজযাত্রা: জেদ্দায় পৌঁছেই সউদী মন্ত্রীর উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন বাংলাদেশি হাজিরা

সউদী আরবের জেদ্দায় কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে 'মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ' টার্মিনালে এক উৎসবমুখর পরিবেশে পা রাখলেন বাংলাদেশি হজযাত্রীরা। শনিবার(১৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ থেকে আসা এই হজযাত্রীদের বিমানবন্দরে সরাসরি উপস্থিত থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সউদী আরবের পরিবহন ও লজিস্টিক মন্ত্রী সালেহ আল-জাসের।
পরিদর্শনকালে সউদী মন্ত্রী হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ টার্মিনালের কার্যক্রম স্বচক্ষে দেখেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।মন্ত্রী জানান, হজযাত্রীরা যাতে কোনো ক্লান্তি ছাড়াই সরাসরি তাদের আবাসে পৌঁছাতে পারেন এবং নির্বিঘ্নে ইবাদত শুরু করতে পারেন, সেটিই সউদী সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সউদী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই অনন্য উদ্যোগটি এ বছর অষ্টম বছরে পা দিল। ২০২৬ সালে এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে সেনেগাল ও ব্রুনাই। বর্তমানে বাংলাদেশসহ মোট ১০টি দেশের হজযাত্রীরা এই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এই প্রকল্প চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ লাখেরও বেশি হজযাত্রী এই উন্নত সেবা গ্রহণ করেছেন।মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের ফলে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা বা মদিনা বিমানবন্দরে পৌঁছে আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ইমিগ্রেশনের অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। তাদের মূল কাজগুলো ঢাকাতেই সম্পন্ন হচ্ছে।
দেশ থেকেই ইলেকট্রনিক ভিসা এবং বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং হজযাত্রীদের মালপত্র নিজ দেশেই বিশেষ কোডিংয়ের মাধ্যমে বুকিং দেওয়া হয়, যা সরাসরি মক্কা-মদিনার হোটেল রুমে পৌঁছে যায়।বিমানবন্দর থেকে ডেডিকেটেড বাসে করে হজযাত্রীরা সরাসরি তাদের গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন।
শনিবার বাংলাদেশ থেকে আসা প্রথম ফ্লাইটটি জেদ্দায় অবতরণ করলে হজযাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। একই দিনে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার হজযাত্রী দলও এই উদ্যোগের আওতায় মদিনায় পৌঁছেছেন।সউদী আরবের এই আধুনিক সেবা ব্যবস্থার ফলে হজযাত্রার চিরচেনা কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোরের আকাশ/এনউব