আল্লাহর ঘরে সময় কাটানোর বরকত

মসজিদ হলো মহান আল্লাহ তাআলার ঘর এবং পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গা হলো বাজার আর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও পবিত্রতম জায়গা হলো মসজিদ। মুসলিম হিসেবে আমরা সাধারণত নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাই। কিন্তু আপনি কি জানেন, নামাজ ছাড়াও শুধুমাত্র মসজিদে শান্ত হয়ে বসে থাকার মাধ্যমেও বিপুল সওয়াব অর্জন করা সম্ভব?
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিভিন্ন হাদিস ও ইসলামি শরিয়তের আলোকে, মসজিদে বসে থাকার চমৎকার কিছু ফজিলত এবং সওয়াব অর্জনের উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ফেরেশতারা অনবরত দোয়া করতে থাকে
একজন মুসল্লি যখন নামাজ শেষ করে ওজু থাকা অবস্থায় জায়নামাজে বা মসজিদের যেকোনো স্থানে শান্ত হয়ে বসে থাকেন, তখন আকাশের ফেরেশতারা আল্লাহর দরবারে তাঁর জন্য ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করতে থাকেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যতক্ষণ ওজুসহ নামাজ আদায়ের স্থানে বসে থাকে, ফেরেশতারা তার জন্য এই বলে দোয়া করতে থাকে—‘হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তার প্রতি দয়া করুন’।” (সহীহ বুখারী)
২. বসে থাকলেও ‘নামাজের সওয়াব’ লেখা হয়
আপনি হয়তো জামাতের জন্য অপেক্ষা করছেন কিংবা নামাজ শেষ করে জিকির করছেন না, কেবল চুপচাপ বসে আছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, যতক্ষণ আপনি নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করবেন, আপনার আমলনামায় অনবরত নামাজ পড়ার সওয়াবই লেখা হতে থাকবে। অর্থাৎ, শারীরিক পরিশ্রম না করেও কেবল অবস্থানের কারণে আপনি ইবাদতের সওয়াব পাচ্ছেন।
৩. আরশের নিচে ছায়া পাওয়ার সুযোগ
কেয়ামতের কঠিন ময়দানে যখন সূর্যের তীব্র উত্তাপে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়বে, তখন মহান আল্লাহ ৭ শ্রেণীর মানুষকে তাঁর আরশের নিচে বিশেষ ছায়া দান করবেন।
এই ভাগ্যবানের তালিকায় রয়েছেন সেই ব্যক্তি—“যার অন্তর মসজিদের সাথে ঝুলে থাকে।” অর্থাৎ, মসজিদে আসার পর যার মন শান্তি পায় এবং নামাজ শেষ হলেও আবার কখন মসজিদে ফিরবেন—এই ব্যাকুলতা নিয়ে যিনি অপেক্ষা করেন।
৪. গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি
মসজিদে বসে আল্লাহর জিকির করা, কুরআন তিলাওয়াত করা কিংবা দ্বীনি আলোচনা শোনা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ। যত বেশি সময় মসজিদে কাটানো যায়, দুনিয়াবি পঙ্কিলতা ও গুনাহের কাজ (যেমন- গীবত, পরনিন্দা বা অনর্থক কথা) থেকে মানুষ তত দূরে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর গুনাহ খাতা মাফ হয় এবং আল্লাহর কাছে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
মসজিদে বসে সওয়াব পাওয়ার কিছু শর্ত ও আদব:
মসজিদে বসে এই অসামান্য সওয়াব লাভ করতে হলে কিছু জরুরি আদব বা নিয়ম মেনে চলতে হবে:
- ওজু অবস্থায় থাকা: যতক্ষণ ওজু থাকবে, ততক্ষণই ফেরেশতাদের দোয়ার সিলসিলা জারি থাকবে। ওজু ভেঙে গেলে দ্রুত পুনরায় ওজু করে নেওয়া উচিত।
- দুনিয়াবি কথাবার্তা না বলা: মসজিদে বসে ব্যবসার আলোচনা, রাজনীতি কিংবা অনর্থক পরনিন্দা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
- অন্যের ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটানো: জোরে জোরে কথা বলে বা মোবাইল ফোনের রিংটোন বাজিয়ে অন্য মুসল্লিদের নামাজ বা মনোযোগ নষ্ট করা যাবে না।
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমরা দুনিয়ার পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় করি। অথচ দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে বা পরে মাত্র ১০-১৫টি মিনিট মসজিদে নিরিবিলিতে কাটানোর অভ্যাস আমাদের পরকালের পাল্লা ভারী করতে পারে। তাই আসুন, প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও মসজিদের পবিত্র পরিবেশে কিছুক্ষণ বসার মানসিকতা তৈরি করি।
ভোরের আকাশ/জেআ