শিরোনাম
রমজানে স্বাভাবিক থাকবে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, বাড়ছে না ভোজ্য তেলের দাম: বাণিজ্যমন্ত্রীআইইডিসিআর পরিচালককে মারধর, অভিযুক্ত ড্যাব নেতার পদ স্থগিতভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে ইসিস্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৩৯গুলিস্তানে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, ফের দখল করলে গ্রেপ্তারদেশে ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে, উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেইচালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীরমজানে স্বাভাবিক থাকবে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, বাড়ছে না ভোজ্য তেলের দাম: বাণিজ্যমন্ত্রীআইইডিসিআর পরিচালককে মারধর, অভিযুক্ত ড্যাব নেতার পদ স্থগিতভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে ইসিস্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৩৯গুলিস্তানে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, ফের দখল করলে গ্রেপ্তারদেশে ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে, উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেইচালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রী

গীবত, অপবাদ ও গুজব—ইসলাম কী শিক্ষা দেয়?

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গুজব বা ভিত্তিহীন সংবাদ মুহূর্তেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে ব্যক্তি, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রও চরম বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার মুখে পড়ছে। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, সত্যতা যাচাই না করে কোনো কথা রটানো বা গুজব ছড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি একটি কবিরা গুনাহ। ইসলাম সমাজকে শান্ত ও সুশৃঙ্খল রাখতে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।

পবিত্র কুরআনের দ্ব্যর্থহীন নির্দেশনা
গুজব বা মিথ্যা সংবাদ যেন সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে, সেজন্য মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন:

“হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে। যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি না করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়।” (সূরা হুজুরাত, আয়াত: ৬)

এই আয়াতটি গুজবের বিরুদ্ধে ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষাকবচ। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেকোনো তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই না করে বিশ্বাস করা বা অন্যের কাছে প্রচার করা যাবে না।

হাদিসের আলোকে গুজবের ভয়াবহতা
রাসূলুল্লাহ (সা.) গুজব ছড়ানোকে মিথ্যুক হওয়ার লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:

“কোনো ব্যক্তি মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে (যাচাই না করে) তা-ই বর্ণনা করে।” (সহিহ মুসলিম)

কিয়ামতের আগে মিথ্যার আধিপত্য বাড়বে বলে তিনি সতর্ক করেছেন এবং মুমিনদের এ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

গুজবের সামাজিক ও ধর্মীয় পরিণতি

১. ফিতনা বা বিশৃঙ্খলা: গুজব সমাজে ঘৃণা, হিংসা ও দাঙ্গা সৃষ্টি করে। ইসলামে ফিতনা সৃষ্টি করাকে হত্যার চেয়েও বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

২. মানহানি: গুজবের মাধ্যমে অনেক সময় নিরপরাধ মানুষের সম্মানহানি করা হয়। ইসলামে একজনের সম্মান অন্যজনের কাছে হারাম করা হয়েছে।

৩. পরকালীন শাস্তি: যারা জেনে-বুঝে মিথ্যা অপবাদ বা গুজব ছড়ায়, তাদের জন্য পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

গুজব প্রতিরোধে একজন মুমিনের দায়িত্ব

আরও পড়ুন

গাইবান্ধায় অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার; প্রধান আসামি গ্রেফতার

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, গুজব প্রতিরোধে ৩টি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

  • যাচাই করা: প্রাপ্ত তথ্যের উৎস এবং সত্যতা নিশ্চিত হওয়া।
  • নীরবতা পালন: যদি তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না যায়, তবে তা প্রচার না করে চুপ থাকা।
  • সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো: কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সমাধান করা।

গুজব কেবল ব্যক্তির ক্ষতি করে না, এটি একটি সুন্দর সমাজকে ভেতর থেকে পচিয়ে দেয়। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ব্যক্তিগত আলাপে যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে আমাদের ভাবা উচিত—এটি সত্য তো? কারণ আমাদের প্রতিটি কথার জন্য কিয়ামতের মাঠে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

ভোরের আকাশ/জেআ

গুজবইসলামগীবতপরনিন্দা

শেয়ার করুন: