কেন কিছু মানুষের দোয়া কবুল হয় না?

মহান আল্লাহর কাছে দোয়া বা প্রার্থনা একজন মুমিনের প্রধান হাতিয়ার। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, বান্দা যখন তার রবকে ডাকেন, আল্লাহ তখন তার ডাকে সাড়া দেন। তবে ইসলামি শরিয়ত ও হাদিসের ব্যাখ্যায় এমন কিছু গুরুতর পাপের কথা উল্লেখ আছে, যা দোয়া কবুলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনকি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় বা পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ ধরে কান্নাকাটি করলেও, ওই ব্যক্তির দোয়া কবুল নাও হতে পারে যদি তিনি নির্দিষ্ট কিছু মহাপাপ থেকে নিজেকে বিরত না রাখেন।
ইমাম ও খতিবদের মতে, নিচের দুই শ্রেণির মানুষের দোয়া সাধারণত কবুল হয় না:
১. অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ ও হারাম উপার্জন
দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত হলো হালাল রিজিক। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষের জায়গা-জমি দখল করে, অন্যের আমানত আত্মসাৎ করে কিংবা সুদি ও হারাম পথে জীবন পরিচালনা করে, তাদের কোনো ইবাদতই আল্লাহর কাছে গৃহীত হয় না।
- মূল কারণ: ইসলাম অন্যের হক বা ‘হক্কুল ইবাদ’ নষ্ট করাকে কঠিন অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে। অন্যের হক নষ্টকারী ব্যক্তি মূলত আবু জাহেলের পথের অনুসারী। যতক্ষণ না পর্যন্ত পাওনাদারের হক ফিরিয়ে দেওয়া হয় বা ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয়, ততক্ষণ দোয়ার দরজা তাদের জন্য রুদ্ধ থাকে।
২. জিনা বা ব্যভিচারে লিপ্ত থাকা
যৌন পাপাচার বা জিনা দোয়া কবুলের অন্যতম বড় বাধা। ইসলামে কেবল শারীরিক সম্পর্কই জিনা নয়; বরং চোখের জিনা (খারাপ ভিডিও দেখা), হাতের জিনা, মোবাইলে হারাম চ্যাট বা পরকীয়া—সবই এই মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত।
- ঈমানি সংকট: নবী করিম (সা.) বলেছেন, মানুষ যখন জিনা বা ব্যভিচারে লিপ্ত থাকে, তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বের হয়ে যায়। যারা প্রতিনিয়ত হারাম সম্পর্কে মগ্ন থাকে, তাদের অন্তরের পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তাদের আকুতি আল্লাহর দরবার পর্যন্ত পৌঁছায় না।
পরিত্রাণের উপায়
আল্লাহর দয়া থেকে কেউ বঞ্চিত নয়। দোয়া কবুলের পরিবেশ তৈরি করতে তিনটি পদক্ষেপ জরুরি:
১. হালাল পথে চলা: জীবনকে সম্পূর্ণ হারামমুক্ত ও হালাল উপার্জনে সাজানো।
২. হক আদায়: কারো অধিকার নষ্ট করে থাকলে তা দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া।
৩. খাঁটি তাওবা: অতীতে করা ভুলের জন্য লজ্জিত হয়ে ফিরে আসা।
আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং তাঁর দয়ার দরজা সবসময় খোলা। তাই দোয়ার ফল পেতে হলে নিজেকে পাপাচারমুক্ত রাখা অপরিহার্য।
ভোরের আকাশ/জেআ