শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মৃত্যুর পর কবরের জীবনে সঙ্গী হবে যেসব আমল

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের দুনিয়ার জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী। জন্মের পর একসময় সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। জীবিত অবস্থায় মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য নানা ধরনের চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর পর সেই সুযোগ আর থাকে না। তখন শুরু হয় হিসাব-নিকাশের পালা। তাই মৃত্যুর আগে এমন কিছু আমল করে যাওয়া জরুরি, যা পরকালীন জীবনে মানুষের জন্য কল্যাণের কারণ হতে পারে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করবে, সে তাদের সঙ্গী হবে, যাদের আল্লাহ পুরস্কৃত করেছেন—নবী, সত্যনিষ্ঠ, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে। আর তারা কতই না উত্তম সঙ্গী।’ (সুরা নিসা: ৬৯)

এই আয়াতে নেককার মানুষের সঙ্গে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। দুনিয়ায় যেমন ভালো মানুষের সঙ্গ মানুষের চরিত্র ও জীবনকে সুন্দর করে, তেমনি পরকালেও নেককারদের সঙ্গ লাভ সৌভাগ্যের বিষয়।

মৃত্যুর পর দুনিয়ার সবকিছু শেষ

মৃত্যুর পর মানুষের সঙ্গে তার অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা, খ্যাতি কিংবা সামাজিক মর্যাদা কিছুই যায় না। জীবনে মানুষ যত সম্পদই অর্জন করুক না কেন, মৃত্যুর পর তাকে দাফন করা হয় কয়েক টুকরো কাপড়ে। যে বাড়ি তৈরিতে জীবনের বড় একটি সময় ব্যয় করা হয়েছে, মৃত্যুর পর সেই বাড়িও তার সঙ্গে যায় না।

কবরের অন্ধকারে মানুষ সম্পূর্ণ একা। দুনিয়ায় তার যে প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল, সেগুলোর কোনো মূল্য সেখানে নেই। তাই জীবিত থাকতেই প্রত্যেকের উচিত নিজের পরকালীন জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।

নেক আমলই হবে আসল সঙ্গী

মানুষের জীবনের প্রতিটি কাজের হিসাব হবে। তাই দৈনন্দিন জীবন, আচরণ, লেনদেন ও কর্মকে আল্লাহর নির্দেশ এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী পরিচালনা করা প্রয়োজন।

যে ব্যক্তি সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকে, সৎকর্ম করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে, তার জন্য পরকালে কল্যাণের আশা রয়েছে। কবরের জীবনে দুনিয়ার কোনো সম্পদ পাশে থাকবে না; বরং মানুষের আমলই তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সিদ্দীক, শহীদ ও সালেহীন কারা

কোরআনে যাদের উত্তম সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সিদ্দীক, শহীদ ও সালেহীন।

সিদ্দীক হলেন এমন ব্যক্তি, যিনি সত্যবাদিতা ও সত্যনিষ্ঠায় দৃঢ়। তিনি কথা, কাজ ও লেনদেনে সত্য ও ন্যায়ের পথ অনুসরণ করেন। অন্যায় ও অসত্যের সামনে তিনি আপস করেন না।

শহীদ শব্দের অর্থ সাক্ষী। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গকারী ব্যক্তিকে শহীদ বলা হয়। ঈমান ও সত্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি নিজের জীবন দিয়ে তার বিশ্বাসের সাক্ষ্য দেন।

সালেহীন বলতে সৎকর্মশীল মানুষকে বোঝায়। তারা বিশ্বাস, চিন্তা, কথা ও কাজে সঠিক ও ন্যায়সংগত পথ অনুসরণ করেন এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলার চেষ্টা করেন।

দুনিয়ায় যারা এসব গুণসম্পন্ন মানুষের সঙ্গ লাভ করতে পারেন এবং তাদের আদর্শ অনুসরণ করেন, তারা নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যবান।

প্রশান্ত আত্মার মর্যাদা

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার রবের দিকে ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।’ (সুরা ফজর: ২৭-৩০)

প্রশান্ত আত্মা বলতে এমন মানুষকে বোঝানো হয়েছে, যার অন্তর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসে দৃঢ় ও নিশ্চিন্ত। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দেওয়া বিধানকে সে সত্য বলে গ্রহণ করে এবং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখে।

এমন ব্যক্তি জীবনে নানা পরীক্ষা, সংকট ও কষ্টের মুখোমুখি হলেও ঈমান ও সত্যের পথ থেকে সরে যায় না। দুনিয়ার সাময়িক লাভের জন্য সে নিজের আখিরাতকে বিসর্জন দেয় না।

মৃত্যুর আগে যে তিনটি আমল করে যাওয়া জরুরি

মৃত্যুর পর মানুষের আমলের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে কিছু আমলের সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সব আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল ছাড়া—সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যার দ্বারা উপকার সাধিত হয় এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম: ৪০৭৭)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, জীবিত থাকতেই এমন কাজ করে যাওয়া উচিত যার সুফল মৃত্যুর পরও পাওয়া যায়।

  • সদকায়ে জারিয়া: এমন দান বা জনকল্যাণমূলক কাজ, যার উপকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন চলতে থাকে।
  • উপকারী জ্ঞান: এমন জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া বা ছড়িয়ে দেওয়া, যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয় এবং মৃত্যুর পরও তার সুফল অব্যাহত থাকে।
  • নেক সন্তান: সন্তানকে সৎ ও নৈতিকভাবে গড়ে তোলা, যাতে সে বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করে এবং ভালো কাজের মাধ্যমে তাদের জন্য সওয়াবের কারণ হয়।

এখনই পরকালের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার

কবরের জীবনে যাওয়ার পর নতুন করে আমল করার সুযোগ থাকবে না। তাই জীবিত অবস্থাটিই নিজেকে সংশোধনের সবচেয়ে বড় সুযোগ। অর্থ, খ্যাতি, ক্ষমতা কিংবা পার্থিব সাফল্যের পাশাপাশি পরকালের সফলতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।

আরও পড়ুন

ভারতের নৌবহরে যুক্ত হচ্ছে জার্মানির ৬ অত্যাধুনিক সাবমেরিন

আল্লাহর বিধান মেনে চলা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা, অন্যায় থেকে দূরে থাকা, মানুষের হক আদায় করা এবং নেক আমলে জীবন সমৃদ্ধ করাই হতে পারে পরকালের প্রস্তুতি।

কখন মৃত্যু আসবে, তা কেউ জানে না। তাই কবরবাসী হওয়ার আগে এমন আমল করে যাওয়া উচিত, যা মৃত্যুর পরও মানুষের জন্য কল্যাণের কারণ হবে। দুনিয়ার জীবন শেষ হয়ে গেলেও সৎকর্মের সুফল যেন অব্যাহত থাকে—প্রত্যেক মুমিনের জন্য এটিই হওয়া উচিত অন্যতম লক্ষ্য।

ভোরের আকাশ/জেআ

কবরের জীবন

শেয়ার করুন: