হজের পর ৪০ দিন ঘরে থাকার ধারণা কতটা সত্য?

হজ থেকে ফিরে ৪০ দিন বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না—এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা ও কুসংস্কার। ইসলামি শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি বা বাধ্যবাধকতা নেই।
হজ একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজ সম্পন্ন করার পর একজন হাজি সম্পূর্ণ পবিত্র ও স্বাধীন জীবনযাপন করবেন। হজের পর ৪০ দিন ঘরে বন্দি থাকা বা বাইরে না যাওয়ার যে প্রথা আমাদের সমাজের কোথাও কোথাও প্রচলিত আছে, তা মূলত লোকমুখের বানোয়াট কথা।
হজ থেকে ফিরে আসার পর সাধারণ জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. স্বাভাবিক চলাফেরা ও কাজকর্মে কোনো বাধা নেই
হজ থেকে ফেরার পরদিনই যদি কারো চাকরি, ব্যবসা বা জরুরি কোনো প্রয়োজনে বাইরে যেতে হয়, তবে তিনি নির্দ্বিধায় যেতে পারবেন। ইসলামে এমন কোনো নিয়ম নেই যা একজন হাজিকে তার স্বাভাবিক ও হালাল কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে রাখবে।
২. কেন এই ৪০ দিনের ভুল ধারণা ছড়াল?
আমাদের সমাজে এই ভুল ধারণাটি ছড়ানোর পেছনে একটি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে। সেটি হলো—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে এসেছে, কেউ যদি জামাতের সাথে প্রথম তাকবিরের (তাকবিরে উলা) সাথে একটানা ৪০ দিন নামাজ আদায় করে, তবে সে মুনাফিকি এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পায়। অনেকে হয়তো এই ৪০ দিনের বিষয়টি হজের সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন। তবে হজের পর ৪০ দিন ঘরের বাইরে না যাওয়ার সাথে এই হাদিসের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই।
৩. হাজিদের জন্য আসল করণীয় কী?
হজ থেকে ফিরে একজন হাজির মূল দায়িত্ব হলো তার বাকি জীবনটাকে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী সুন্দরভাবে পরিচালনা করা।
- নামাজ কায়েম রাখা: হজের পর অলসতা না করে নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামাজ পড়ার চেষ্টা করা উচিত (যা ঘরের বাইরে যাওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব)।
- সৎ পথে চলা: ব্যবসা, চাকরি ও সামাজিক জীবনে সততা বজায় রাখা।
- গুনাহ থেকে দূরে থাকা: যে পঙ্কিলতা বা খারাপ অভ্যাসগুলো হজের আগে ছিল, সেগুলো চিরতরে পরিহার করা।
সংক্ষিপ্ত কথা:
হজ থেকে ফিরে কোনো হাজি যদি সুস্থ ও সক্ষম থাকেন, তবে তিনি নিজের প্রয়োজনে, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি কিংবা মসজিদে যেতে কোনো বাধা নেই। সামাজিক কুসংস্কারে কান না দিয়ে হজের শিক্ষা বুকে ধারণ করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাই ইসলামের নির্দেশ।
ভোরের আকাশ/জেআ