আজ খিটখিটে মেজাজ দিবস

সবসময় হাসিখুশি থাকা কিংবা জোর করে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখা প্রতিটি মানুষের পক্ষে প্রতিদিন সম্ভব নাও হতে পারে। কখনো কখনো মানসিক চাপ, ক্লান্তি বা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে যে কারো মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। মানুষের এই স্বাভাবিক রাগ, বিরক্তি ও মানসিক বৈচিত্র্যকে মেনে নেওয়ার বার্তা নিয়ে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর উদযাপিত হয় ‘আন্তর্জাতিক খিটখিটে মেজাজ দিবস’ বা ‘ন্যাশনাল গ্রাউচ ডে’ (National Grouch Day)।
যাঁরা কথায় কথায় রেগে যান বা প্রায়ই মুখ গোমড়া করে থাকেন, আজকের দিনটি মূলত তাঁদের মেজাজ ও স্বভাবকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার এক মজার মাধ্যম।
খিটখিটে মেজাজ দিবসের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
দিবসটির উৎপত্তি ও ইতিহাস: ১৯৬০-এর দশকে জনপ্রিয় শিশুতোষ টিভি শো ‘সেসেমি স্ট্রিট’-এর বিখ্যাত গোমড়ামুখো চরিত্র ‘অস্কার দ্য গ্রাউচ’ (Oscar the Grouch)-এর অনুপ্রেরণায় এই দিবসের সূচনা হয়। ময়লার ব্যারেলে বাস করা এই চরিত্রটি সবসময় খিটখিটে মেজাজে থাকার জন্যই জনপ্রিয় ছিল।
আবেগের স্বাভাবিকীকরণ: এই দিবসটি আমাদের শেখায় যে মানুষের সব দিন সমান যায় না। সবসময় ভালো থাকার ভান না করে মাঝে মাঝে নিজের খারাপ লাগা বা বিরক্তিকে স্বাভাবিকভাবে স্বীকার করে নেওয়ার মধ্যে কোনো দোষ নেই।
খিটখিটে মেজাজের সম্ভাব্য কারণ: মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত কাজের চাপ, শারীরিক অসুস্থতা, দীর্ঘদিনের জমে থাকা উদ্বেগ কিংবা শরীরে পুষ্টি ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা মানুষকে খিটখিটে করে তুলতে পারে।
মেজাজ সামলানোর উপায়: অনাকাঙ্ক্ষিত খিটখিটে ভাব কাটাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, প্রিয় কাজগুলোতে সময় দেওয়া, হাঁটাহাঁটি করা এবং বিরক্তির মূল কারণটি চিহ্নিত করে সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি।
জীবনের প্রতিটি মানুষেরই বিরক্তি বা রাগ প্রকাশের অধিকার রয়েছে, তবে নিজের খিটখিটে মেজাজ যাতে অন্য কারো কষ্টের কারণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আজকের দিনে গোমড়ামুখো মানুষকে খোঁচানোর বদলে বরং একটু ভালোবেসে বা হেসে তাঁদের মেজাজ ভালো করার চেষ্টা করাই হতে পারে সেরা পদক্ষেপ।
ভোরের আকাশ/জেআ