শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্যারিস, চেরি ব্লসমে সেজেছে আলোর শহর

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সিন নদীর ওপর দিয়ে বসন্তের বাতাস যখন মৃদু শিহরণ বয়ে নিয়ে আসে, প্যারিস তখন এক ভিন্ন মলাটে বন্দি হয়ে ওঠে। প্রকৃতি তার সব রঙ ঢেলে ঢেকে দেয় ভালোবাসার এই শহরকে। আলোর শহরে যেন গাছে গাছে ঝুলছে রঙিন ঝাড়বাতি, বাজছে নতুন জীবনের গান। পাথুরে রাজপথ আর ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যের ভিড়ে হঠাৎ উঁকি দেয় চেরি ফুলের মেলা যাকে ফরাসিরা ভালোবেসে ডাকে ‘সেরিজিয়া’ (Cerisier)।

এটি কেবল ফুল ফোটা নয়, এ যেন প্রকৃতির এক বার্ষিক উৎসব, যেখানে শহরটি তার আভিজাত্য ঝেড়ে ফেলে এক ষোড়শীর মতো চঞ্চল হয়ে ওঠে, বিলিয়ে দেয় জীবনীশক্তি।
প্যারিসের চেরি বাগানগুলো এখন যেন কোনো রূপকথার পাতায় খোদাই করা দৃশ্য। ফরাসিদের গর্বের আইফেল টাওয়ার-ও যেন এই সময়ে কিছুটা ফিকে হয়ে আসে। তারই পাদদেশে অবস্থিত ত্রোকাদেরো উদ্যান-এ দাঁড়ালে মনে হয়, আকাশ থেকে নরম গোলাপি মেঘ নেমে এসেছে মাটির কাছাকাছি।

হালকা বাতাসে চেরি ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়ে এমনভাবে, যেন শহরজুড়ে চলছে গোলাপি তুষারপাত। জাপানের ‘সাকুরা’ আর ফরাসি রোমান্টিকতা মিলে এখানে তৈরি করে এক অপার্থিব অনুভব। সাহিত্যিকদের চোখে এই সময়ের চেরি গাছ যেন লজ্জাবতী কনে বসন্তের আবিরে সেজে থাকা। ডালপালার ফাঁক দিয়ে যখন আইফেল টাওয়ারের লোহার কাঠামো দেখা যায়, তখন যন্ত্র আর প্রকৃতির এক অনন্য সহাবস্থান ধরা দেয়।
চেরি ব্লসমে সেজেছে

যেখানে দেখা মিলবে প্যারিসের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: প্যারিসের প্রায় প্রতিটি কোণেই চেরি ফুলের দেখা মেলে। তবে কিছু জায়গায় এই সৌন্দর্য যেন আরও ঘন হয়ে ধরা দেয়। বসন্তের এই সময় অনেকেই ভুলে যান রূপকথার মতো ডিজনিল্যান্ড প্যারিস-এর কথা। কৃত্রিম আনন্দকে হার মানিয়ে জায়গা করে নেয় প্রকৃতির এই বাস্তব রূপকথা।

এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে যেতে পারেন পার্ক দ্য সো: প্যারিসের পাশেই অবস্থিত বিশাল এই উদ্যানে রয়েছে চেরি ফুলের বিস্তীর্ণ বাগান। ৪ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত এখানে আয়োজন করা হয় চেরি ফেস্টিভাল। সাদা ও গোলাপি দুই রঙের চেরিই দেখা যায়। জাপানি ঐতিহ্যের ‘হানামি’ উৎসবও পালিত হয় এখানে।

ত্রোকাদেরো: আইফেল টাওয়ারের সেরা ভিউ আর চেরি ফুল একসাথে দেখতে চাইলে এটাই আদর্শ জায়গা। একপাশে ঐতিহাসিক সিন নদী, সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আইফেল, আর চারপাশে গোলাপি পাপড়ির আবরণ।

নটর ডেম ক্যাথেড্রাল: গোথিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এই গির্জার দক্ষিণ পাশের ছোট বাগানে বসন্তে ফুটে ওঠে শান্ত সৌন্দর্যের চেরি ফুল।
জার্দাঁ দে প্লঁত: এখানে রয়েছে প্রাচীনতম ও বিস্তৃত ডালপালার চেরি গাছ, যারা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে।
কীভাবে যাবেন..

প্যারিসের চেরি বাগানগুলোতে পৌঁছানো বেশ সহজ। পার্ক দ্য সো যেতে চাইলে প্যারিসের দ্রুতগতির আঞ্চলিক রেলপথের বি লাইন ধরে সরাসরি ‘পার্ক দ্য সো’ স্টেশনে নামা যায়। শহরের ভেতরের বাগান গুলোতে যেতে মেট্রো লাইন ৬ বা ৯ নম্বর লাইন ব্যবহার করে সহজেই ত্রোকাদেরো পৌঁছানো সম্ভব।

চেরি ফুলের আয়ু খুব বেশি নয় বড়জোর দুই সপ্তাহ। কিন্তু এই স্বল্প সময়েই তারা শেখায় মুহূর্তকে উপভোগ করতে। বিকেলের নরম আলোয় যখন গোলাপি পাপড়ি এসে কাঁধে পড়ে, তখন মনে হয় প্যারিস কেবল পাথরের শহর নয়, এটি হৃদয়ের স্পন্দন।

যদি এই সময়ে ফ্রান্সে থাকা হয়, তবে ক্যামেরা আর কফির কাপ হাতে বেরিয়ে পড়াই ভালো। কারণ প্যারিসের এই গোলাপি তুষারপাত মনে করিয়ে দেয়—জীবন সুন্দর, আর বসন্ত সবসময়ই নতুন শুরুর বার্তা নিয়ে আসে।

ভোরের আকাশ/এনউব

চেরি ব্লসম

শেয়ার করুন: