শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দুর্গম পাহাড়ে ১৪ দু:সাহসী তরুণের রোমাঞ্চকর অভিযান

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, অজানা পথের হাতছানি আর অভিযানের অদম্য নেশা মানুষকে বারবার টেনে নিয়ে যায় দুর্গম পাহাড়-পর্বতের মাঝে। 

সেই নেশা থেকেই চলতি বছরের (২০২৬) এপ্রিল মাসে DM RIDERS GROUP NARSINGDI-এর ১৪ জন সদস্য বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এক রোমাঞ্চকর অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।

২৮ এপ্রিল নরসিংদী থেকে যাত্রা শুরু করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ৩০ এপ্রিল তারা বান্দরবান জেলার থানচি শহরে পৌঁছান। পরদিন নাফাখুম, আমিয়াখুম ও সাতভাই খুমের উদ্দেশ্যে অভিযান শুরু হয়। প্রথমে নৌকাযোগে প্রায় ১৭ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করতে হয়। এরপর শুরু হয় প্রকৃত চ্যালেঞ্জ—দীর্ঘ প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম।

কখনো বুকসমান পানির মধ্যে দিয়ে, কখনো ছোট-বড় পাথরে ভরা নদীপথ পেরিয়ে, আবার কখনো খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠতে হয়েছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল পথ, ঘন ঝোপঝাড় আর দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশ অভিযাত্রীদের প্রতিটি মুহূর্তকে করে তুলেছিল রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং।

দিনের শেষে তারা পৌঁছান জিনাপাড়া এলাকায়। সেখানে স্থানীয় জুম ঘরে রাতযাপনের ব্যবস্থা করা হয়। পাহাড়ে উৎপাদিত চাল, নানা ধরনের পরিচিত ও অপরিচিত সবজি এবং ভর্তা দিয়ে রাতের খাবার শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোরে চারপাশের পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে। হালকা নাস্তা হিসেবে রুটি ও কলা খেয়ে আবারও শুরু হয় নতুন পথচলা।

আমিয়াখুমের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথ ছিল আরও বেশি কঠিন। বর্ষার কারণে পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত খাড়া পাহাড় বেয়ে কখনো ওপরে উঠতে হয়েছে, আবার কখনো নিচে নামতে হয়েছে। এভাবে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে তারা পৌঁছে যান স্বপ্নের গন্তব্য আমিয়াখুমে।

আমিয়াখুমে পৌঁছানোর পর প্রায় ১৩০০ মিটার খাড়া পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামতে হয়েছে, যেখানে সামান্য ভুল পদক্ষেপও ডেকে আনতে পারত ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সু-উচ্চ পাহাড় থেকে পড়ে গেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল না বললেই চলে। তাই প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।

শহুরে জীবনের সঙ্গে পাহাড়ি জীবনের পার্থক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি থেকে কাটানো কয়েকটি দিন অভিযাত্রীদের জীবনে এনে দেয় নতুন অভিজ্ঞতা। মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থেকে টানা তিন দিন তারা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটান, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির কোলাহল ছিল না, ছিল শুধু পাহাড়, ঝর্ণা, নদী আর সবুজের সমারোহ।

দীর্ঘ ও দু:সাহসিক এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করে ৩ জুন দলটি আবার থানচি শহরে ফিরে আসে। এরপর দুই দিন মোটরসাইকেলযোগে যাত্রা শেষে সবাই নিজ নিজ গন্তব্য নরসিংদীর শিবপুর কলেজ গেইটে পৌঁছান।

আরও পড়ুন

খুলনার সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত সোলার পার্ক সচলের দাবি

প্রকৃতিপ্রেমী ও অভিযাত্রীদের জন্য এই ভ্রমণ ছিল শুধু একটি সফর নয়, বরং সাহস, ধৈর্য, দলগত ঐক্য এবং প্রকৃতিকে কাছ থেকে জানার এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

ভ্রমণ কাহিনির তথ্য ও ছবি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন DM RIDERS GROUP NARSINGDI-এর দু:সাহসী অভিযানের সদস্য আমিনুল হক। 

ভোরের আকাশ/ র.ই

অভিযান

শেয়ার করুন: