শিরোনাম
রাজধানীবাসীর জন্য সুখবর, ৬ রুটে একক কোম্পানির বাস চালু হচ্ছে রবিবারগাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজটরোববার নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরাফ্যাসিবাদ উত্থানের পথ বন্ধ করতে রাজনৈতিক ঐক্যই বেশি প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপেগাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাআশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপচাকরি থেকে বরখাস্ত সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনসহ ৭ কর্মকর্তারাজধানীবাসীর জন্য সুখবর, ৬ রুটে একক কোম্পানির বাস চালু হচ্ছে রবিবারগাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজটরোববার নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরাফ্যাসিবাদ উত্থানের পথ বন্ধ করতে রাজনৈতিক ঐক্যই বেশি প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপেগাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাআশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপচাকরি থেকে বরখাস্ত সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনসহ ৭ কর্মকর্তা

অফিসে কেউ আপনার নামে গুজব ছড়ালে কী করবেন?

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অফিসে ঢুকে বুঝতে পারলেন, কয়েকজন সহকর্মী আপনাকে দেখে কথা থামিয়ে দিলেন। কেউ আগের মতো সহজভাবে কথা বলছেন না। কিছুদিন পর জানতে পারলেন, আপনার সম্পর্কে এমন কিছু কথা ছড়িয়েছে, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

হয়তো বলা হচ্ছে, আপনি বসের কাছে সহকর্মীদের নামে অভিযোগ করেন। কিংবা চাকরি ছাড়ছেন, এমন খবরও ছড়িয়েছে, অথচ আপনি নিজেই কিছু জানেন না। অফিসে গুজব শুধু অস্বস্তির কারণ নয়। কখনো কখনো এটি সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে, এমনকি আপনার পেশাগত সুনামেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি কীভাবে সামলাচ্ছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমেই প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না
নিজের সম্পর্কে মিথ্যা কথা শুনলে রাগ হওয়াই স্বাভাবিক। বিশেষ করে কে কথাটি ছড়িয়েছেন, তা জানতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে জবাব চাইতে ইচ্ছা হতে পারে। কিন্তু রাগের মাথায় তর্কে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। প্রথমে জানার চেষ্টা করুন, আসলে কী বলা হয়েছে। যিনি আপনাকে খবরটি দিয়েছেন, তিনি নিজে শুনেছেন, নাকি অন্য কারও কাছ থেকে জেনেছেন? কথাটি আদৌ গুজব, নাকি কোনো বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা, সেটিও বোঝা দরকার। অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে অভিযুক্ত করলে উল্টো আপনার সঙ্গে অন্যদের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।

সব গুজবের জবাব দেওয়া জরুরি নয়
অফিসে আপনার পোশাক, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত নিয়ে কেউ মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি হয়তো বিরক্তিকর, কিন্তু তাতে আপনার কাজ বা পেশাগত সুনামের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। এমন ক্ষেত্রে প্রতিটি কথার ব্যাখ্যা দিতে গেলে অপ্রয়োজনীয় আলোচনাই বাড়তে পারে। অন্যদিকে, কেউ যদি প্রচার করেন আপনি অফিসের গোপন তথ্য বাইরে দেন, কাজে অসৎ কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কোনো গুজব আপনার কাজ, সহকর্মীদের আস্থা বা ভবিষ্যৎ সুযোগের ওপর প্রভাব ফেলছে কি না, সেটি বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করুন।

যিনি ছড়াচ্ছেন, তার সঙ্গে কথা বলবেন কীভাবে?
গুজবের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হলে এবং পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে পারেন। সবার সামনে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করার প্রয়োজন নেই। ধরুন, একজন সহকর্মী বলছেন আপনি নাকি তার বিরুদ্ধে বসের কাছে অভিযোগ করেছেন। তাকে বলতে পারেন, ‘শুনলাম, আমার সম্পর্কে এমন একটি কথা বলা হচ্ছে। আমি বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাই, কারণ এমন কিছু আমি করিনি।’

কথা বলার সময় অভিযোগের বদলে নির্দিষ্ট ঘটনার ওপর মনোযোগ দিন। তিনি কী বলেছেন, কেন বলেছেন, তা জানতে চান। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিন, আপনার সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ানো বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তবে কেউ যদি বারবার অপমানজনক আচরণ করেন বা ভয় দেখান, তাহলে একা তার মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন নেই।

সবাইকে ধরে নিজের পক্ষে সাফাই দেবেন না
গুজব ছড়ানোর পর অনেকেই এক সহকর্মীর কাছে গিয়ে আরেক সহকর্মীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এতে কখনো কখনো গুজবটি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। যাদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করা সত্যিই প্রয়োজন, শুধু তাদের সঙ্গেই কথা বলুন। যেমন, কোনো ভুল তথ্যের কারণে আপনার বস কাজের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে সরাসরি তার সঙ্গে আলোচনা করুন। অফিসের গ্রুপ চ্যাটে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করাও সাধারণত ভালো সিদ্ধান্ত নয়। এতে ব্যক্তিগত বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে।

প্রমাণ থাকলে সংরক্ষণ করুন
গুজব যদি নিয়মিত ছড়ানো হয় কিংবা আপনার পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে ঘটনাগুলোর লিখিত হিসাব রাখুন। কবে, কোথায়, কী বলা হয়েছে এবং কারা উপস্থিত ছিলেন, তা লিখে রাখতে পারেন। ই-মেইল বা অফিসের মেসেজে মিথ্যা অভিযোগ থাকলে সেগুলোও সংরক্ষণ করুন। তবে প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংরক্ষণ ও গোপনীয়তার নিয়ম মেনে চলুন। শুধু অন্যের মুখে শোনা কথাকে নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে ধরে নেবেন না। প্রত্যক্ষ ঘটনা এবং শোনা তথ্য আলাদা করে রাখুন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হলে এই তথ্যগুলো কাজে আসতে পারে।

বসকে কখন জানাবেন?
সব ছোটখাটো মন্তব্য নিয়ে বসের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু গুজবের কারণে আপনার কাজ ব্যাহত হলে, সহকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতা কঠিন হয়ে পড়লে কিংবা আপনার বিরুদ্ধে গুরুতর মিথ্যা অভিযোগ উঠলে কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। আলোচনায় ব্যক্তিগত বিরোধের চেয়ে কাজের ওপর প্রভাবটি তুলে ধরুন। বলতে পারেন, ‘আমার সম্পর্কে একটি ভুল তথ্য ছড়ানোর কারণে দলের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য আপনার পরামর্শ চাই।’ প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগ থাকলে তাদের কাছেও লিখিত অভিযোগ করা যেতে পারে। বিশেষ করে গুজবের সঙ্গে হয়রানি, বৈষম্য, হুমকি বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের বিষয় জড়িত থাকলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পথ বিবেচনা করুন।

পাল্টা গুজব ছড়াবেন না
যিনি আপনার সম্পর্কে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছেন, তার ব্যক্তিগত জীবন বা কাজ নিয়ে পাল্টা মন্তব্য করার ইচ্ছা হতে পারে। কিন্তু এতে মূল সমস্যার সমাধান হয় না। বরং অফিসে নতুন করে বিরোধ তৈরি হতে পারে। একইভাবে অন্য সহকর্মীদের নিজের পক্ষে টানতে গিয়ে কাউকে পক্ষ নিতে বাধ্য করবেন না। এতে কাজের পরিবেশ আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। আপনার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ভুল তথ্য সংশোধন করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আচরণ বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া, কাউকে অপদস্থ করা নয়।

আরও পড়ুন

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল ফি কত, নির্ধারণ করে দিল সরকার

গুজব যদি বন্ধ না হয়?
আপনি বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন, কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছেন। তারপরও একই ব্যক্তি বারবার মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে আগের অভিযোগের অগ্রগতি জানতে চান এবং নতুন ঘটনার প্রমাণসহ আবার জানান। প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ নিষ্পত্তির নিয়ম থাকলে তা অনুসরণ করুন। গুরুতর হয়রানি বা মানহানির ঘটনায় প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাগত বা আইনি পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে।

সবশেষে মনে রাখবেন, অফিসের সবার কাছে নিজেকে ভালো প্রমাণ করার দায়িত্ব আপনার নয়। তবে কোনো ভুল তথ্য আপনার পেশাগত সুনাম বা কাজের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করলে চুপ করে থাকাও সব সময় সমাধান নয়। কোথায় উপেক্ষা করবেন, কোথায় সরাসরি কথা বলবেন আর কখন কর্তৃপক্ষের সাহায্য নেবেন—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ভোরের আকাশ/এনএস

শেয়ার করুন: